সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৯ আগস্ট: স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাড়িতে পরিচারিকার প্রাণ নাশের কিনারা করল পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। খুনের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হল দুই অভিযুক্ত। ধৃত দুই অভিযুক্তর নাম ভিকি শর্মা এবং রাকেশ কুমার রজক। ভিকির বাড়ি পুরুলিয়া শহরে এবং অপরজনের বাড়ি পুরুলিয়া মফঃস্বল থানার দুবচড়কা গ্রামে। দুজনেই কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন।
ভিকির বিয়ের খরচের বোঝা রয়েছে। সেই টাকা জোগাড় করতে তার কাজের সঙ্গী রাকেশকে ওই বাড়িতে নিয়ে যায়। দুই জনের মধ্যে অর্ধেক টাকা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। তিনতলা বাড়িতে ঢুকে প্রথমে পরিচারিকাকে শ্বাস রোধ করে, পরে ভারি কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে দুই যুবক। তার পর একটি ঘরে পরিচারিকার দেহ বিছানার সঙ্গে ঠেসিয়ে তোষক চাপা দেয়। ওই ঘরটি তালা বন্ধ করে দেয় অভিযুক্তরা। তার পরই বাড়ির কর্ত্রী নন্দিতা দেবীর উপর চড়াও হয় দুই যুবক। তাঁকেও মাথায় ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত করে। মূলত মোটা টাকা সংগ্রহের জন্যই ওই বাড়িতে হামলা চালায় পরিচিত ওই দুই যুবক। পূর্ব পরিকল্পিত ছিল যে মোটা টাকা ওই বাড়ি থেকে নিয়ে চম্পট দেওয়া। তাদের ধারণা ছিল না যে ওই সময় বাড়ির কর্ত্রী ছাড়াও তাঁর মেয়ে, পরিচারিকা থাকবেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল পুরুলিয়া শহরের দর্জি পাড়া এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাড়িতে পরিচারিকার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর স্ত্রী বর্তমানে দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতা পরিচারিকার নাম পার্বতী বাদ্যকার (৫৫)। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়া শহরের স্থানীয় সরর্ষা বাড়ি এলাকায়। একইসঙ্গে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বছর বাহান্নর নন্দিতা দাস কর্মকার। তার স্বামী প্রদীপ দাস কর্মকার পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তাঁর একটি সোনার দোকান রয়েছে পুরুলিয়া শহরে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, আঘাত করে হত্যা সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় পুরুলিয়া সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার এস সেলভা মুরুগান। আজ অভিযুক্তদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজত হয় তাদের। ধৃতদের ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেল বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। যে অস্ত্র দিয়ে দুই মহিলাকে আঘাত করেছিল ওই দুষ্কৃতীরা সেগুলির খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

