পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ নভেম্বর: অশ্লীল নাচ ও জুয়ার আসরে যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ। দেহ টেনে নিয়ে গিয়ে ফেলা হল জাতীয় সড়কের ধারে। বৃহস্পতিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাট থানার গুটিন এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই যুবকের নাম আলি হাসান মন্ডল ওরফে রানা (১৯)। বাড়ি হিলি থানার লস্করপুর এলাকায়।
পেশায় শ্রমিক নিহত রানা ওইদিন রাতে গুটিন এলাকায় গিয়েছিলেন অশ্লীল নাচ ও জুয়াতে অংশগ্রহণ করতে। সেখানেই বচসা এবং তারপরেই তাকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুক্রবার সকালে রাজ্য সড়কের ধারে রক্তাক্ত অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হতেই তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে ঠাকুরপুরা এলাকায় পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠায় পতিরাম থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের খবর অনুযায়ী, হিলির লস্করপুর এলাকার বাসিন্দা আলী হাসান মন্ডল বেশ কয়েকদিন আগে ভিনরাজ্য থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরেছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বালুরঘাট থানার গুটিন এলাকায় অশ্লীল নাচ ও জুয়ার আসরের খবর পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। ওই অশ্লীল নাচের আসরে ওই যুবককে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। ওই নাচকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসর বসেছিল। রাত বাড়তেই বাড়ছিল অশ্লীল নাচের তীব্রতাও।

আর ঠিক তখনই ওই যুবতীদের ধরবার জন্য মঞ্চের সামনে একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওই যুবক বলে অভিযোগ। যাকে ঘিরেই তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। চলে ওই যুবককে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর বলে অভিযোগ। আর এরপরেই রক্তাক্ত অবস্থায় কার্যত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আলী হাসান ওরফে রানা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতেই রাজেন, বিশ্বজিৎ ও পরী নামের তিন কুখ্যাত জুয়াড়ীর নির্দেশে ওই যুবকের দেহ ফেলা হয় ঠাকুরপুরার তাহেরচক এলাকার রাজ্য সড়কের ধারে।
এদিন সকালে একপ্রকার নগ্ন অবস্থায় ওই যুবকের দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনার খবর পেতেই এলাকায় পৌছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠায় পতিরাম থানার পুলিশ। বাসিন্দাদের দাবি, দু’দিন ধরে গুটিন এলাকায় জমে উঠেছিল ওই নাচ ও জুয়ার আসর। তবে পুলিশের নজর এড়িয়ে কিভাবে টানা দুদিন ধরে এমন অশ্লীল নাচ ও জুয়ার আসর জমে উঠেছিল এলাকায়, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
গুটিন এলাকার বাসিন্দা তথা প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা জানিয়েছেন, অল্পবয়সী ওই যুবক মেয়েদের নাচের সময় মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েদের হাত টানাটানি করছিল। সেই সময়ই মারধর করা হয় ওই যুবককে। তবে তার পরিচয় তারা কিছু জানেন না। ঘটনার পরেই অনেকে ভয়ে পালিয়ে গিয়েছেন।
পলাশ সরকার ও অভিজিৎ মাহাতোরা বলেন, যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। পাশ্ববর্তী এলাকায় রাতে গান নাচের আসর বসেছিল। ওখানেই গিয়েছিল সে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করলেই প্রকৃত দোষীরা ধরা পড়বে।
মৃতের এক আত্মীয় দুখা মন্ডল বলেন, খুন না কি, সেটা পুলিশ খুজে বের করুক এবং দোষীদের শাস্তি দিক।

