আমাদের ভারত, ৩১ জানুয়ারি: ভোটের মুখে পুলিশের শীর্ষ পদের রদবদল হয়েছে। আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সিপি পদে সুপ্রতিম সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, সিঙ্গুরে কৃষকদের ওপর লাঠি চালিয়েছিলেন এই সুপ্রতিম সরকার। এখন সেই তৃণমূলের তিনি কাছের লোক।
কলকাতার নয়া পুলিশ কমিশনার হিসেবে সুপ্রতিম সরকারকে নিয়োগ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সিঙ্গুর কান্ডের সময় সুপ্রতিম সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে সুকান্তবাবু বলেন, আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কোলে বসতেন, এবার তাকে কোলে বসালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি মনে করিয়ে দেন, সিঙ্গুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন চলছিল। এই সুপ্রতিম সরকার সেই সময় বামফ্রন্ট সরকারের অত্যন্ত কাছের একজন অফিসার ছিলেন। বলা ভালো কোলের অফিসার ছিলেন। কৃষকদের ওপর লাঠিচার্জ, মহিলাদের ভ্যানে তোলার মতো কাজ তিনি সিঙ্গুরে করেছিলেন। সুপ্রতিম সরকার আগে বুদ্ধবাবুর কোলে বসে থাকতেন, এখন সুপ্রতিম সরকার আবার চলে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোলে।
পুলিশের রদবদলে বিনীত গোয়েল হয়েছেন এডিজি আইন শৃঙ্খলা। আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যা কাণ্ডের সময় জনতার চাপে তাকে কলকাতার সিপি পদ থেকে সরিয়ে এসটিএফ- এ বদলি করা হয়েছিল। এখন আবার তিনি এডিজি আইন শৃঙ্খলা। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিনীত গোয়েল এমন একজন অফিসার, ধর্ষণ কাণ্ডে যার ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। কামদুনি কাণ্ডে তদন্ত তিনি করেছিলেন। সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে যায়। তারপর আরজি কর মামলায় তাকে সরাতে বাধ্য হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেও তাকে ফিরিয়ে আনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার নিঃর্শত সমর্পণ।
বিনীত গোয়েলকে বাধ্য তৃণমূল কর্মী বলেও কটাক্ষ করেন সুকান্ত। তিনি বলেন, এরকম সমর্পিত টিএমসি কর্মী খুব কম দেখা যায়। পার্টি নেতৃত্ব সম্ভবত এতটা সমর্পিত কর্মী নন, যতটা উনি সমর্পিত। তার পুরস্কার হিসেবেই তাকে এডিজি আইন শৃঙ্খলা পদে আনা হয়েছে বলে মনে করেন বিজেপি নেতা।

