পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৪ আগস্ট: বুথ কর্মীকে মিথ্যে মাদক কেসে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতার। প্রতিবাদ করায় এক ষাটোর্ধ বৃদ্ধকে অন্ডকোষে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে জাহির হোসেন মন্ডল নামে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। পালটা মারধরের অভিযোগ তুলেছেন ওই তৃণমূল নেতাও। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের সমজিয়া এলাকার। ঘটনা জানিয়ে দুপক্ষের তরফেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কুমারগঞ্জ থানায়। অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নেমেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।
জানাগেছে, কুমারগঞ্জের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা পেশায় গাড়ি চালক নূর আলম মোল্লা। যিনি এলাকায় তৃণমূলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবেই পরিচিত। যাকেই মাদক পাচারের মিথ্যে কেসে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমারগঞ্জ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জাহির হোসেন মন্ডল বলে অভিযোগ।
রবিবার স্থানীয় সমজিয়া বাজারে উভয়েই সামনাসামনি হতেই এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান নূর আলম মোল্লা। আর তখনই শুরু হয় উভয়ের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি। নূর আলম মোল্লার গলা চেপে ধরে তাকে প্রাণনাশের চেষ্টা করেন ওই তৃণমূল নেতা বলেও অভিযোগ। যা দেখতে পেয়েই তাকে বাঁচাতে ছুটে যান নূর আলম মোল্লার চাচা তথা ষাটোর্ধ মোবারক মন্ডল। যার অন্ডকোষেই লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
যদিও পালটা ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা জাহির হোসেন মন্ডল। ঘটনার পরে দু’পক্ষকেই চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। আর এরপরেই উভয় পক্ষের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কুমারগঞ্জ থানায়। দু’পক্ষের তরফে লিখিত অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নেমেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।
জানা গেছে, বেশকিছুদিন আগে সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে একশো দিনের কাজের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। কাজ না করেই লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নেন ওই পঞ্চায়েতের প্রধান ও তার স্বামী বলে অভিযোগ। যে ঘটনার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছিলেন কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, বেলা বারোটাতেও দেখা যায়না পঞ্চায়েতের কর্মীদের। এমন অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েতের গেটে তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন বাসিন্দারা। আর সেই আক্রোশেই নূর আলম মোল্লার বিরুদ্ধে কার্যত ফুঁসছিলেন এলাকার ওই তৃণমূল নেতা। যদিও তার অভিযোগ, এসব করে পঞ্চায়েতের কর্মীদের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করছিলেন নূর আলম। যার প্রতিবাদ করাতেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
যদিও নূর আলম মোল্লার স্ত্রী তথা অভিযোগকারী মরিয়ম খাতুন বলেন, তার স্বামীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার হুমকি বহুদিন ধরে দিচ্ছিলেন জাহির হোসেন। ঘটনার প্রতিবাদ করাতেই তার স্বামীকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে সে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে বৃদ্ধ চাচাও। অভিযুক্তর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চান তিনি।
যদিও জাহির হোসেন মন্ডল জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতের কর্মী ও তার কাছ থেকে টাকা চাইছিলেন ওই ব্যক্তি। যার প্রতিবাদ করাতেই তাকে মারধর করেছে তারা।
কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, দু’পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

