আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৩ মার্চ: তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সভাপতি ড: সৌমেন মহাপাত্র শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিবাকর জানা সহ ১০ জন পদাধিকারীকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানালেন।
আজ তমলুকে তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা অফিসে বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ড: সৌমেন মহাপাত্র জানালেন যে শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূল কংগ্রেসের দিবাকর জানা সহ ১০ জন পদাধিকারীকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হল তিন বছরের জন্য। তিনি জানিয়েছেন, দল বিরোধী কাজের জন্য এই দশজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ১০ জন পদাধিকারী তৃণমূল দলে থেকেও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তাই দল বিরোধী কাজের জন্য এই দশজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। এই বার্তা দিয়ে অন্য ব্লক গুলিকেও জানানো হয়েছে যারা তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে দল বিরোধী কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে দল এই ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড: সৌমেন মহাপাত্র জানিয়েছেন, ব্লকের অন্যান্য নেতৃত্বের থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার সত্যতা যাচাই করে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়। তারপরেই রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ড: সৌমেন মহাপাত্র জানিয়েছেন, বহিষ্কারের তালিকায় আছেন-
১) দিবাকর জানা, সভাপতি, শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতি।
২) সুনীল দেবাধিকারী, সঞ্চালক খারুই ২ অঞ্চল।
৩) শিলাদিত্য আদক, প্রধান, রঘুনাথপুর ২ অঞ্চল।
৪) নিকুঞ্জ বিহারী মান্না, উপ প্রধান, কাখর্দা অঞ্চল।
৫) বিভাস কর, কর্মাধ্যক্ষ, শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতি।
৬) মিনতি পট্টনায়েক, প্রধান, কাখর্দা অঞ্চল।
৭) দেবনাথ দাস, সঞ্চালক, কাখর্দা অঞ্চল।
৮) তনুশ্রী জানা, সদস্যা, জেলা পরিষদ।
৯) রাখি আদক, সদস্যা, জেলা পরিষদ।
১০) নীলিমা দেবাধিকারী, কর্মাধ্যক্ষ, শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতি।
এই বহিষ্কারের কথা জানাজানি হওয়ার পরে শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিবাকর জানা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, তিনি এই ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে কোনও খবর পাননি। তিনি জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি এ খবর জেনেছেন। তবে তিনি মনে করেন এই ধরণের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। প্রথমে শোকজ না করে কিভাবে সরাসরি বরখাস্ত করা হল সেই নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, জেলা সভাপতি ২০১৬ সালে দল বিরোধী কাজ করে তৃণমূলের প্রার্থীকে ভোটে হারিয়েছিলেন। তবুও দল তাকে বহিষ্কার করেনি। তবে এবারের ভোটে তিনি জনগণের দ্বারা বহিস্কৃত হবেন পাঁচ বছরের জন্য।

