জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১০ আগস্ট: ফের উত্তপ্ত দুর্গাপুর। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) ‘চোর ধরো জেলে ভরো’ কর্মসূচির মিছিলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের হামলা। অভিযোগ কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন মাইক বাজিয়ে মিছিল করার। বুধবার তাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দুর্গাপুর গভঃ কলেজ এলাকায়। ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫ জন বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী। যার মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা হুঁশিয়ারি তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদের। ঘটনার তদন্তের আশ্বাস পুলিশের।

প্রসঙ্গত, এসএসসি ও টেট দুর্নীতিতে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর গত বিধানসভা নির্বাচনের পর গেরুয়া শিবির কার্যত বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে রাজনৈতিক ময়দানে সরব হয়েছে। এসএসসি ও টেট দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেফতারের দাবিতে ‘চোর ধরো, জেলে ভরো’ কর্মসূচি নিয়ে রাজ্যজুড়ে মিছিল শুরু করেছে বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ।
বুধবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) পক্ষ থেকে এসএসসি ও টেট দুর্নীতির প্রতিবাদে মিছিল ছিল দুর্গাপুরে। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুর্গাপুরের ফুলঝোড় থেকে তাদের মিছিল শুরু হয়। দুর্গাপুর গভর্মেন্ট কলেজ এলাকায় মিছিল পৌঁছাতেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একদল কর্মী সমর্থক মিছিলে অতর্কিতে হামলা চালায়। লাঠি, রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। ভাঙ্গচুর করা হয় একটি টোটো গাড়িতে।
যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট সভাপতি শুভজ্যোতি মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“কলেজে সেকন্ড সেমিস্টার পরীক্ষা চলছে। নিয়ম মতো ১০০ মিটারের মধ্যে মাইক বাজানো নিষিদ্ধ। তারই প্রতিবাদ করা হয়। ওই সময় আমাদের কয়েকজন ছেলেকে মারধর শুরু করে।”

আহত এবিভিপি কর্মী জয়দীপ ব্যানার্জি জানান, “শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল হচ্ছিল। তারা যখন আসে, তাদের অনুরোধ করা হয়। শান্তিপূর্ণ ভাবে কলেজের পাশ দিয়ে মিছিল বেরিয়ে যাবে। কিন্তু, গভর্মেন্ট কলেজের কাছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের শ’দেড়েক ছেলে আচমকা লাঠি, রড দিয়ে হামলা চালায়। কলেজের ভেতর ৬ জনকে ঢুকিয়ে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। লাঠি ও রড দিয়ে এতটাই নৃশংস ভাবে মারে যে, আমাদের কর্মীদের ওপর মোটরবাইক ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রাণে মারর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা হতবাক, কোন রাজ্যে বাস করছি। যেখানে মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার থাকবে না। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা, এসিপি
(দুর্গাপুর) তথাগত পাণ্ডে সহ কমব্যাট ফোর্স। ঘটনাকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়। আহতদের দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের মধ্যে কয়েক জনকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনায় দুর্গাপুর পুরসভার তৃণমূলের মেয়র পারিষদ তথা স্থানীয় কাউন্সিলর দীপঙ্কর লাহা আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারির চড়া সুর তুলে বলেন, “এরকম পরীক্ষা চলাকালীন মাইক বাজিয়ে মিছিল করার মতো বর্বোরচিত আচরণ বরদাস্ত করা যায় না। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা হলে, খুব ভয়ানক প্রতিক্রিয়া হবে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছেলেরা কি করবে, তখন আমাদের কিছু করার থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রভোকেশন কোথা থেকে আসছে এটা ভাবতে হবে। তবে এবিভিপির ছেলেরা এধরনের ভুল যাতে না করে তার আবেদন রইল।”
খবর পেয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছান বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “একজন কাউন্সিলর প্রতিক্রিয়ায় হুমকি দিয়ে বলেছে ভয়ঙ্কর হবে। যেভাবে ইডি, সিবিআইয়ের হাতে তাদের বড় নেতারা দুর্নীতিতে ধরা পড়ছে। সেই ভয় থেকে এসব বলছে।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্যে গণতন্ত্র নেই। চাকরি চুরি করছেন। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। রাজ্যের মানুষকে ঠকিয়েছে। মানুষ যখন প্রতিবাদ করছেন, তখন প্রতিবাদ করার অধিকারটুকুও নেই। উল্টে লাঠি, রড দিয়ে মারধর করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্বের চরিত্র বাংলার মানুষ বুঝে গেছে।”
আসানসোল-দুর্গাপুর ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানান,” লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

