আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১ এপ্রিল : উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রয়াত বিকাশ বসু। ২০০০ সালে দুষ্কৃতীরা তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর বিকাশ বসুকে ঘোষপাড়া রোডের উপর যে স্থানে গুলি করে হত্যা করেছিল, সেখানেই প্রত্যেক বছর নিয়ম করে বিকাশ বসুর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন নোয়াপাড়ার তৃণমূল কর্মীরা। নোয়াপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভিভাবক ছিলেন প্রয়াত বিকাশ বসু। বিকাশ বসুর হত্যার পর তাঁর স্ত্রী মঞ্জু বসুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নোয়াপাড়ার রাজনীতিতে নিয়ে এসে ছিলেন। ২০০০ সালের পর থেকে পর পর ৫ বার বিকাশ বসুর স্ত্রী মঞ্জু বসুকে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে দলনেত্রী। এবারও তার অন্যথা হয়নি। এই ঘটনা প্রমাণ করে নোয়াপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রয়াত বিকাশ বসু।
বৃহস্পতিবার বিকাশ বসুর ২২ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীরা শপথ নিলেন, ২০২১ সালে নোয়াপাড়া আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে জয়ী করিয়ে আসনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দেবেন তারা। তারজন্য পরিশ্রম করতে প্রস্তুত সকলেই। তৃণমূল প্রার্থী মঞ্জু বসু প্রয়াত স্বামীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “আমার স্বামীর অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে চাই। প্রয়াত স্বামীর অসম্পূর্ণ ফেলে আসা কাজ তৃণমূলকে জিতিয়ে নোয়াপাড়াবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে করে যেতে চাই। কোনও মানুষই আজীবন বেঁচে থাকে না। তবে মানুষ তার কাজের মধ্যে দিয়ে সারাটা জীবন অমর হয়ে থাকে। আজকের দিনে দাঁড়িয়েও দলের কর্মীরা এখনও বিকাশ বসুকে স্মরণ করে, তখন বুঝতে পারি মানুষ ওকে কতটা ভালবাসত। ওর মৃত্যুর পর দিদি আমাকে হাত ধরে রাজনীতিতে নিয়ে এসে ছিল। আবারও বাংলায় আরো একটা ভোট চলছে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একটাই শপথ এই নোয়াপাড়া আসনে জিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও দিদির হাত শক্ত করতে চাই। দিদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে পৌঁছে দিতেই হবে। দিদি ছাড়া বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষা মুশকিল।”
কথাগুলো বলতে বলতেই চোখ জলে ভিজে আসছিল নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী মঞ্জু বসুর।

প্রয়াত বিকাশ বসুর আজ ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী। ২০০০ সালের ১ লা এপ্রিল সকালে ইছাপুর ঘোষপাড়া রোডের উপর প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বিশ্বস্ত কর্মী বিকাশ বসুকে। সেই সময় রাজনীতিতে আসেননি মঞ্জু বসু। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিকাশ বসুর হত্যার পর পর পর ৫ বার মঞ্জু বসুকে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করেন। তারমধ্যে ২ বার জিতেছেন এবং ২ বার পরাজিত হয়ে ছিলেন মঞ্জু বসু। ২০২১ সালেও শহীদ বিকাশ বসুর স্ত্রী মঞ্জু বসুর উপরই ভরসা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভরসা তার উপর দেখিয়েছেন, মঞ্জু বসু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই আস্থা রাখবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোয়াপাড়া সিট জিতে উপহার দিতে চান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ বিকাশ বসুর মূর্তিতে মাল্যদানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই মঞ্জু বসু সহ নোয়াপাড়ার শীর্ষ স্থানীয় তৃণমূল নেতারা বিকাশ বসুর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এদিন শহীদ বিকাশ বসুর মৃত্যু দিনে নোয়াপাড়ার তৃণমূল কর্মীরা শপথ নেন ২২ এপ্রিল নির্বাচনে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী মঞ্জু বসুকে জিতিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করবেন। তৃতীয় বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ক্ষমতায় আসবেন।

