ট্রাক্টর মেকানিক এবং চালক হিসাবে দিদি নম্বর ওয়ানে উইনার শান্তিপুরের কন্যা আত্রেয়ী

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৯ মে: সন্তান মেয়ে হোক বা ছেলে, কর্মজীবন নিয়ে চিন্তিত থাকেন সব পিতা-মাতাই। তবে একটু ব্যতিক্রমী পড়াশোনা করলে হয়তো সফলতা মেলে অনায়াসে।

নদিয়ার শান্তিপুর শহরের ভদ্রাকালী এলাকায় ইলেকট্রনিক্সের দোকানদার অদ্বৈত দাসের মেয়ে আত্রেয়ী কত্থক নাচে বহুবার পুরস্কৃত হয়েছে। তবে বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী আত্রেয়ী এবং তার দাদা অর্ঘ্য দুজনেই ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রতিষ্ঠিত।

আত্রেয়ী উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ২০১৫ সালে কৃষ্ণনগর গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা কোর্স করেন, তিন বছরের কোর্স শেষ হওয়ার পর একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আরো তিন বছর পড়াশোনা করে বিটেক সম্পন্ন করেন। মা রীনা দাস গৃহবধূ হওয়ার কারণে তার মনের সুপ্ত বাসনা অনুযায়ী মেয়েকে সবক্ষেত্রেই সহযোগিতা করতেন। অন্যান্য পুরুষ সহপাঠীরা বিটেক সমাপ্ত হওয়ার পর বিভিন্ন বিভাগে চাকরিতে যোগদান করে। তবে একমাত্র মহিলা ছাত্রী আত্রেয়ীর জেদ ছিল, যে বিষয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন অর্থাৎ পরিবহন এবং চাষের ট্রাক্টর সম্বন্ধীয়, সেই বিষয়েই তিনি খুঁজতে থাকেন কাজের সুযোগ।

আন্তর্জাতিক মানের একটি ট্রাক্টর উৎপাদক এবং বিক্রেতা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে নদিয়ার একটি ইউনিটে প্রথম কাজ শুরু করেন তিনি। অল্পদিনের মধ্যেই তার পড়াশোনার দক্ষতায় এবং ব্যবহারে ওই সংস্থার সমগ্র বাংলা এবং ভুটানের সেলস এন্ড মার্কেটিং এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পান।

সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের পেশায় একজন মহিলা হিসেবে আত্রেয়ীর সফলতার কথা তুলে ধরতে নৈহাটিতে দিদি নম্বর ওয়ান অডিশনে গত ৮ই মে আমন্ত্রণ জানায় তার এক বান্ধবী। ১৪ তারিখ দ্বিতীয় অডিশনে যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকার কারণে। তবে ট্রাক্টর প্রস্তুতকারক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে তারাই নিয়ে যান নিজেদের উদ্যোগে। এরপর ফাইনাল শুটিং হয় ১৯ শে মে। মা-বাবা সহ পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজন পরিজন সাতজন আমন্ত্রণ পান। ভিন্ন পেশায় স্বাবলম্বী মেয়ে হিসাবে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ফুচকা বিক্রেতা, খবরের কাগজ বিক্রেতা এবং গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত এমনই তিনজন অংশগ্রহণের মধ্যেও আত্রেয়ী উইনার হন দিদি নম্বর ওয়ানে। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শান্তিপুরে খুশির জোয়ার।

আত্রেয়ী বলে, মূলত বাবার ইচ্ছায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়েছিলাম। কখন পড়াশোনা করতে করতে ভালো লেগে যায় এই বিষয়টাকে। যার ফলে প্রত্যন্ত গ্রামে কৃষকদের সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়েছে। সেখানে আমাকে দেখে অনেক মেয়ের বাবা তাদের মেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপারে সচেতন হবেন এটাই আমার বড় পাওনা।

আত্রেয়ীর মা রিনা দেবী মেয়ের মধ্যে দিয়ে নিজের সুপ্ত ইচ্ছা পূরণে উচ্ছ্বাসিত। তিনি, সকল মায়েদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তাদের মেয়েদের উপর বিশ্বাস রাখার জন্য।
বাবা অদ্বৈত দাস বলেন, নাচের ক্যারিয়ারে কিছুটা ব্যাঘাত হলেও কর্ম নিশ্চিত হওয়ার পর এবার আবারও তা প্রকাশ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *