আমাদের ভারত, ৮ ডিসেম্বর: রাজ্য সরকার বার বার অভিযোগ করেছে কেন্দ্র ১০০ দিনের টাকা আটকে দিয়েছে। এর পাল্টা কেন্দ্র তথা বিজেপি অভিযোগ করেছে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজে পাহাড় প্রমান দুর্নীতি হয়েছে। কোনো হিসাব দিতে না পারায় টাকা আটকে গেছে।
কিন্তু এরই মধ্যে জানাগেছে বহুদিন আটকে থাকার পর এবার টাকা দেওয়া নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছে কেন্দ্র। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তিনি ও শুভেন্দু অধিকারী ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এর সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি, সততা-পরিশ্রম করে যারা ১০০ দিনের কাজ কিরেছেন সেই মানুষদের ন্যায্য পাওনা পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বিজেপির।
১০০ দিনের টাকা দেরিতে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আর্থিক বছর দুমাস বাকি থাকতে টাকা দিলে সেটা কোনও কাজে আসে না। বলবে আমরা দিয়েছি ওরা কাজ করতে পারেনি। কিভাবে হবে? বরাত দিতে সময় লাগে না? কাজ তৈরি করতে সময় লাগে না? সঠিক সময়ে টাকা দেওয়া দরকার, এটাও তো এক ধরনের চালাকি। যে আর্থিক বছরের শেষে কিছু দিয়ে দাও যেন ভিক্ষা দিচ্ছে।
এর পাল্টা দিতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন,
“আমরা চাই না পশ্চিমবঙ্গে গরিব মানুষ ১০০ দিনের যে কাজ করেছে সে কাজ করার পাওনা থেকে বঞ্চিত হোক।” তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। আগামী ১৯ তারিখ তিনি এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ওনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সুকান্ত বলেন, “১০০ দিনের কাজের বিষয় আমরা কথা বলব। বাংলার সাধারণ মানুষ যারা সততার সাথে কাজ করেছেন। তারা যেন অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।”
১০০ দিনের কাজের টাকা যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা চুরি করেছেন সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। সুকান্ত বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসে যে চুরি করেছে তার জন্য বিভিন্ন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধানরা টাকা জমা দিয়েছেন। রাজ্যের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে সেই টাকা। যে অ্যাকাউন্ট থেকে ১০০ দিনের কাজ হয় সেই একাউন্টে জমা পড়েছে। যা প্রমাণ করছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধানরা ওই চুরি করেছিলেন।”
হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “চোরেদের সাম্রাজ্য চলছিল। আগামী দিনে ভারতীয় জনতা পার্টি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে। আবারো যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে তাহলে আমরা প্রত্যেকটি ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি পাঠানোর জন্য চিঠি লিখব কেন্দ্রীয় সরকারকে।”
১০০ দিনের টাকা বিজেপি সরকার আটকে রেখেছে বলে বার বার দাবি করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রচারে কেউ বিশ্বাস করেনি বা তাদের কথায় কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ মানুষ বুঝেছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধানরা চুরি করার জন্য এই টাকা আটকে গেছে।” তার অভিযোগ, “হিসেব নেই নদীর মধ্যে পুকুর খুঁড়েছে, একই রাস্তা কতবার হয়েছে, সবচেয়ে বড় কথা যে পরিমাণ মাটি কাটা হয়েছে, সরকার তার যে হিসেবে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে অত মাটি আছে কিনা সন্দেহ। এত টাকার দুর্নীতি হয়েছে যে সেই টাকায় গ্রামে গ্রামে তৃণমূল নেতারা বিশাল বড়লোক হয়ে গেছে। তাদের বাড়ি দেখলে মাথা ঘুরে যাবে।”
সুকান্ত মজুমদার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “যারা সততা এবং পরিশ্রমের সঙ্গে ১০০ দিনের কাজ করেছেন তাদের টাকা মার যাবে না। সেই দায়িত্ব ভারতীয় জনতা পার্টি নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলে সেই টাকা তাদের পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব।”

