যারা মোদীকে ভয় পাচ্ছেন, তারা নতুন ভারতের ওই সিংহ দেখে ভয় পাচ্ছেন: দিলীপ ঘোষ

আমাদের ভারত, খড়্গপুর, ১৪ জুলাই:
এবার সিংহ নিয়ে বিরোধীদের জবাব দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, আগে যেটা ছিল সেটা বৌদ্ধ যুগের। এখন নিউ ইন্ডিয়া। এখন বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত। যার কথায় রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়, তার প্রভাব তো কিছুটা পড়বেই। বিরোধীরা নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করতে না পেরে এখন সিংহ নিয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে খড়্গপুর শহরে প্রাতঃভ্রমণ সেরে চা চক্রে যোগ দেন পরিচিত থমাসের চায়ের দোকানে। চা চক্র শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বর্তমান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

জাতীয় প্রতীক নিয়ে বিতর্ক:
নতুন সংসদ ভবনের উপরে প্রতিষ্ঠিত অশোকস্তম্ভের সিংহ নিয়ে বিরোধীরা শোরগোল শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, সিংহের কেন দাঁত দেখা যাচ্ছে এবং সিংহ কেন রাগান্বিত? এর জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, আগে যেটা ছিল সেটা বৌদ্ধযুগের সিংহ। আর এখন নিউ ইন্ডিয়া। সারা দুনিয়াতে যে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্বগুরু, তার প্রভাব তো একটু পড়বেই। নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতা করার সুযোগ না পেয়ে বিরোধীরা এখন সিংহ নিয়ে পড়েছেন। আমার মনে হয় যদি বাঘের ছবি থাকতো তাহলে কোনও সমস্যা হতো না। যেহেতু সিংহ গুজরাটে পাওয়া যায়। সেটা ওরা সহ্য করতে পারছেন না। এই সিংহ আজকে গর্জন করছে। গর্জনরত সিংহ এটা। কারণ ভারত জেগেছে দুনিয়া দেখতে পাচ্ছে। এই সিংহের গর্জনের জন্য ইউক্রেন আর রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেছিল। এর গর্জনের জন্য G-7 এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডাক পান। এটা হচ্ছে আজকের আসল ভারত। তার ছাপ হয়তো কিছু দেখা যাচ্ছে। যারা মোদীকে ভয় পাচ্ছেন, তারা ওই সিংহকে দেখে ভয় পাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে:

এদিন পঞ্চায়েতের কাজকর্মেরও সমালোচনা করে বলেন, আপনারাই দেখাচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায় পঞ্চায়েতের লোকরা টাকা নিচ্ছে। একশ দিনের কাজ লোক পাচ্ছে না, যা পাচ্ছে অর্ধেক লোক টাকা পাচ্ছে না। আমরা জানি এখানে যারা অডিট করে, পঞ্চায়েতের তারা অস্থায়ী কর্মচারী, বাচ্চা ছেলে মেয়ে। তারা বলেছে, নেতারা যা চায়, সেটাই লিখে সই করে দিয়ে আসতে হয়। কারণ এ ছাড়া আর উপায় নেই আমাদের। সব জায়গায় একই অবস্থা। কেন্দ্রের যে অফিসাররা এসেছিলেন তারাও হোটেলে থেকেছেন। বিডিও’র দেওয়া পার্টিতে মজমস্তি করেছেন, সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছেন। তার উপরেই এই সমস্ত সার্টিফিকেট আসছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।

ইসিএল (Ecl) কর্তাদের নাম আসছে কয়লা দুর্নীতিতে:

কয়লা একটা ব্যাপক আকারের দুর্নীতি। অবৈধ কয়লা খনন চলছে। তার সাথে লক্ষ লক্ষ লোক যুক্ত রয়েছে। সেটাই ওখানকার আর্থনীতি। গরিব লোক হয়তো কাজ করে খাচ্ছে কিন্তু যারা অপারেট করছে, যারা কোটি কোটি টাকা লুটছে এজেন্ট, সরকারি অফিসার, এমনকি সুরক্ষা কর্মীরাও কেউ কেউ যুক্ত আছে। এই বিরাট বড় একটা কেস–সেটাতেই কেন্দ্রীয় সরকার হাত দিয়েছে। যত তদন্ত এগোচ্ছে তত বহু লোকের নাম সামনে আসছে। দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের সামনে আনার চেষ্টা করছে। আমাদের মনে হচ্ছে এতে আরো অনেক বড় বড় রাঘববোয়াল ফাঁসবে এবং তারাও সামনে আসবে।

মলয় ঘটককে ডেকেছে সিবিআই:
এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, অনেক বড় বড় রথী মহারথী কয়লাকান্ডের সাথে যুক্ত ব্যাপক টাকার লেনদেন হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফর:

যেখানে ওনারা হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে দৌড়াচ্ছেন। জঙ্গলমহলে বারবার আসছেন, সরকারি বৈঠক করছেন। আমাদের একবারও ডাকেননি। এখানে যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি তারা ডাক পান না। এটা কেবল টিএমসির পার্টি মিটিং হয়ে যায়। উত্তরবঙ্গেও তাই, উনারা বলছেন উত্তরবঙ্গ অশান্ত করতে দেব না। উত্তরবঙ্গকে অশান্ত কে করেছে? মমতা ব্যানার্জি নিজে দার্জিলিংয়ের লোককে ভড়কেছেন। ওখানকার লোক ওনাকে ঘেরাও করেছে, উনি সেনার সাহায্য নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। সেজন্য ওখানকার লোককে যদি উল্টাপাল্টা বলে ক্ষেপান তাহলে তার প্রতিরোধ পেতে হবে। ওনারা প্রতারণা করেছেন তাই বারবার ওখানকার লোকেরা ভোটে বুঝিয়ে দিয়েছে।

সরকারি প্রকল্পের নাম পাল্টানো:

আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছি নাম না পাল্টালে টাকা বন্ধ করুন, সেটা সরকার শুরু করেছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, যেখানে বিজেপি সরকার নেই সেখানে এ ধরনের কাজ হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বেশি পরিমাণে হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *