রাজেন রায়, কলকাতা, ১০ মার্চ: কংগ্রেসে থাকাকালীন তার রাজনৈতিক জীবনে কোনও দাগ কাটতে পারেনি কোনও ঘটনা। কিন্তু এবার তিনি সবংয়ে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। আর তারপরেই আইকোর কাণ্ডে এবার নজরে সবংয়ের তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইঞা। বুধবার তাঁকে নোটিস পাঠাল সিবিআই। জিজ্ঞাসবাদের জন্য অতি শীঘ্রই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আইকোরের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কিছুদিন আগে প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা গিয়েছিল মানস ভুঁইঞাকে। তখন তিনি আইকোরের সমর্থনে একাধিক বক্তব্যও রেখেছিলেন। এছাড়াও আইকোর কাণ্ডে একাধিক ব্যক্তিকে জেরা করায় উঠে এসেছে মানস ভুঁইঞার নাম। সেই কারণেই তৃণমূল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিলেন তদন্তকারীরা। মনে করা হচ্ছে, মানসবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইকোর কাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে। জানা যাচ্ছে, ওই ভিডিও’র ভিত্তিতে আরও একাধিক প্রভাবশালীকেও দেখা গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা গুলি মূল অভিযুক্ত ছিল। তার মধ্যে ১২ বছর আগে বাংলায় তৈরি হওয়া একাধিক চিটফান্ড সংস্থার মধ্যে অন্যতম ছিল আইকোর। স্বল্প বিনিয়োগে অনেক বেশি মুনাফা লাভের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে টাকা আদায় করত অনুকূল মাইতির সংস্থা। শুধু এ রাজ্যেই নয়, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে ফুলেফেঁপে উঠেছিল সংস্থা। ২০১২ সালে অনেক চিটফান্ড সংস্থার আর্থিক তছরূপের বিষয় ফাঁস হয়ে যায়।
২০১৫ সালে অনুকূল মাইতি, তাঁর স্ত্রী এবং সংস্থার দুই ডিরেক্টরকে গ্রেপ্তার করে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। এরপর তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওড়িশায় দায়ের হওয়া এক অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করে।
তবে, সিবিআইয়ের চিঠি পাওয়ার সত্যতা মানস ভুঁইয়া স্বীকার করেননিl তিনি এখনো পর্যন্ত কোনো চিঠি পাননি বলে মানুষ ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতা সাংবাদিকদের জানিয়েছেনl তিনি বলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে ভোটের আগে এইভাবে সিবিআইকে লেলিয়ে দিয়ে মানস ভুঁইয়ার ভোট প্রচারে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছেl

