সাঙ্ঘাতিক! এবার উত্তর প্রদেশে গঙ্গার পাড়ে সারি সারি মৃতদেহ পুঁতে রাখার ছবি সামনে এলো

আমাদের ভারত, ১৩ মে:
সোমবার থেকে উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন নদীর জলে একের পর এক লাশ ভেসে উঠতে দেখা গিয়েছিল। পচা গলা কয়েকশো লাশ দেখে আঁতকে উঠেছিল দেশবাসী। এবার আরো এক ভয়ঙ্কর ছবি উঠে এলো উত্তরপ্রদেশের উন্নাও থেকে। লখনৌ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে উন্নয়নের গঙ্গার পাড়ে দুটি জায়গায় বালির মধ্যে সারি সারি মৃতদেহ পোঁত রয়েছে বলে খবর দিয়েছেন স্থানীয়রা।

মোবাইলের ক্যামেরায় এই ছবি তোলা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, দেহগুলি কাপড় মোড়ানো আছে। করোনায় মৃতদের দেহ এইভাবে বালুচরে পুঁতে দেওয়া হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের অনুমান করোনা রোগীর মৃত্যুর হিসেব দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। তাদের কাপড়ে মুড়ে বালুচরে পুঁতে রেখে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন উন্নাওয়ের শ্মশানে প্রতিদিন মৃতদেহ সৎকারের জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ছে। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও একই পরিস্থিতি। অনেকেই দেহ দাহ করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কবরস্থান গুলিতেও দেহ সমাহিত করার জায়গা নেই। তাদের বক্তব্য, শ্মশানে পোড়ানো জায়গা নেই, কাঠের যোগান নেই। সম্ভবত সেই কারণেই নদীর তীরে দেহ পুঁতে দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, স্থানীয়দের অনেকেই দেহ দাহ না করে নদীর চরে পুঁতে দেন। এমনই কিছু এক্ষেত্রে হয়ে থাকতে পারে। তবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করতে বলা হয়েছে। মৃতদেহগুলো কোথা থেকে এলো? এগুলি করোনা রোগীর মৃতদেহ কিনা তাও তদন্ত করে দেখবে পুলিশ। গত সোমবার থেকে উত্তর প্রদেশ, বিহারের পর মধ্যপ্রদেশের নদীর জলে মৃতদেহ ভাসতে দেখা গেছে। পান্না জেলার একটি নদীতে কমপক্ষে ছয়টি মৃতদেহ ভেসে উঠেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পচা-গলা দেহগুলি নদীর পাড়ে জমা হচ্ছে। শ্মশানে পোড়ানোর জায়গা নেই, তাই নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন অনেকে। আর এর ফলে জলে দূষণ ছড়াচ্ছে। গ্রামের মানুষ এই জলে স্নান করেন, অনেকে পানীয় হিসেবে ব্যবহার করেন। তাই দূষণ রোধে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *