হেরে যাবে ২ মে, তাই অজুহাতের মহড়া দিচ্ছে তৃণমূল: জিতেন্দ্র

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ এপ্রিল: ‘হেরে যাবে। তাই ২ মের পর মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রাখার মহড়া দিচ্ছে তৃণমূল।’ বুধবার তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল ও বিশ্বনাথ পাড়িয়ালের অভিযোগের পাল্টা কটাক্ষ করলেন পান্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী। আবার বহিরাগত লোক নিয়ে আসার প্রতিক্রিয়ায় পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনকে স্মরণ করিয়ে দিলেন লক্ষন ঘোড়ুই।

প্রসঙ্গত, বুধবার দুর্গাপুরের করঙ্গপাড়ায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তৃণমূলের দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের প্রার্থী বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। তিনি বলেন, “বিহার, ঝাড়খন্ড থেকে বিজেপি মাফিয়া, সমাজবিরোধীদের দুর্গাপুর ও পান্ডবেশ্বরে বাড়ি ভাড় করে রাখেছে, আগ্নেয়াস্ত্র সহ। ২৬ এপ্রিল ওই মাফিয়ারা তান্ডব করবে, রাজনৈতিক সন্ত্রাস করে বিজেপি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে।  পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনকে বলেছি। অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য ওইসব মাফিয়াদের খুঁজে বের করা হোক। তাদের ভোটার কার্ড দেখা হোক এবং ব্যাবস্থা নেওয়া হোক।”

জেলাজুড়ে আঁটোসাঁটো নাকা চেকিংয়ের পরও কিভাবে ঢুকল? প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, “প্রশাসনিক ব্যার্থতা।পুলিশের একাংশ অর্থের কাছে বিকিয়ে যাচ্ছে।”

আবার বুধবার পান্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে সভায় যোগ দেন বীরভুমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মন্ডল। এদিন তিনি আবারও নির্বাচন কমিশনকে নাম না করে কটাক্ষ করে বলেন, “কেরল, অসমে এক দফা, দু দফায় ভোট আর বাংলায় কেন ৮ দফা? কেন একদফায় হল না, তার জবাব নরেন্দ্রমোদীকে আর ধৃতরাষ্ট্রকে দিতে হবে।” এদিন তিনি বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারীকে নাম না করে আবার অশালীন ভাষায় আক্রমন করে বলেন, “ভয়ঙ্কর মোষ। ভয়ঙ্কর রাক্ষস। খেতে জানে দিতে জানে না। তার সঙ্গে কথা বলা যায় না। তবে নরেন( তৃণমূল প্রর্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী) ভালো ছেলে। যখন তখন ডাকবেন। দুটো কথা বলতে পারবেন। দিতে জানে, খেতে শেখেনি।”

তৃণমূলের দুই নেতার পাল্টা জবাবে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, “হেরে যাবে। তাই ২ মের পর মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রাখার রিহারস্যাল করছে তৃণমূলের নেতারা।” তিনি আরও বলেন,” চিন্তা নেই। ১৯ এপ্রিল সব জবাব দিতে আসছে অমিত শাহ। যাকে দেখলে অনুব্রত মন্ডলের প্যান্টেই সব হয়ে যায়।” আবার দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষন ঘোড়ুই বলেন, “রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের সন্ত্রাস মানুষ দেখেছে। মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি। ভোটাধিকার কিভাবে কেড়ে নিয়েছিল। দুর্গাপুর পুরসভা ভোটও শহরবাসী দেখেছে। কিভাবে সন্ত্রাস করেছে তৃণমূল। আর এখন হেরে যাবে। তাই এসব অজুহাত দিচ্ছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *