আমাদের ভারত, ২৮ সেপ্টেম্বর: কলকাতার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফ্লিম এন্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটে গোলমালের ঘটনায় সোমবার ফের বামেদের একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, আমরাও থেরাপি দিতে জানি এবার সেই থেরাপি চলবে।
রবিবার আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সঙ্গে হাতাহাতিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট- এর চত্বর। সেখানে আজ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকালের ঘটনায় নীরব প্রতিবাদ করেছেন পড়ুয়ারা। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, হঠাৎ করে বামেরা একটু জেগে উঠেছে। আমরা অনেক সময় বলি বামেদের অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। এটা আমাদের ভদ্রতা সৌজন্যবোধ, কিন্তু সেই ভদ্রতাকে বামেরা দুর্বলতা ভাবছে। বামেদের অনেক ভাগ আছে। অতি বাম, ছোট বাম। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, প্রত্যেকের জন্য দাওয়াই আছে। থেরাপি আমরাও দিতে জানি। এবার সেই থেরাপি চলবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান, গতকালের ঘটনায় আরএসএস বিরোধিতা করতে গিয়ে ভারত মাতার ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
রবিবার রাতেই সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ঘটনায় ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন সুকান্ত মজুমদার। ঘটনায় বহিরাগত হিসেবে বামপন্থী যোগের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে সুকান্ত মজুমদার রবিবার রাতেই লিখেছেন, বামপন্থীদের কদর্য চেহারা আর নিকৃষ্ট মানসিকতা আজ আবার প্রকাশ্যে এলো। তিনি লিখেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতাদর্শগত পার্থক্যের জেরে দেশ মাতৃকার প্রতি অসম্মান কিংবা বিশ্ব বরেণ্য মনীষী স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা, লাথি মারা ও থুতু ফেলার মত জঘন্য আচরণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বামেদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মুখে প্রগতিশীলতা বাঙালিত্ব ও সংস্কৃতির দাবি করলেও এমন কদর্য ও জঘন্য আচরণ সেই দাবির সঙ্গে গভীর বৈপরীত্য প্রকাশ করে। আজকের এই অসম্মান, লাথি শুধু একজন বিশ্ব বরেণ্য সন্ন্যাসী বা মনীষীর প্রতি নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতি চূড়ান্ত গভীর অবমাননা।
রবিবার অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জানা গিয়েছে, এই দিন এস আর এফ টি আই ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি প্রেক্ষাগৃহে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে বাধা দেন এস আর এফ টি আই- এর একদল পড়ুয়া। অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং তারপর রীতিমতো হাতাহাতি শুরু হয়। দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছে।
গোলমালের ঘটনায় মোট তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে পঞ্চসায়ের থানায়।গাড়ি ধাক্কাধাক্কি, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে পুলিশের তরফে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকদের তরফ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে অনুমতি নিয়ে সভা করার পরেও হামলার জন্য ছাত্রদের তরফ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

