স্নেহাশীষ মুখার্জী, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৯ জুন: অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে কোথাও কোথাও অগ্নিগর্ভ হলেও, চাকুরিপ্রার্থী যুবসমাজ বলছে অন্য কথা। তাদের কাছে দেশ সেবার সৌভাগ্যের সুযোগ এসেছে। তাই, নদিয়ার বিভিন্ন সাইবার কাফেগুলিতে দেখা গেল উৎসাহী বেকার যুবকদের ভীড়।
শান্তিপুর আড়পাড়া গ্রামের সাইবারকাফের মালিক জগৎচন্দ্র বিশ্বাস, বলেন গত ২৪ তারিখ থেকে অগ্নিপথ প্রকল্পে এখনো পর্যন্ত ১৫ জন ইচ্ছুক প্রার্থীর আবেদন পূরণ করা সম্ভব হয়েছে অনলাইনে, কারণ বেশিরভাগ প্রার্থীই ফেরৎ যাচ্ছেন, সার্ভার ডাউন থাকার কারণে। কারণ হিসেবে তিনি মনে করছেন প্রচুর সংখ্যক ছাত্রছাত্রী একই সময়ে, একটি সাইটে আবেদন করছেন অনলাইনে।
পাশের গ্রাম বড় জিয়াকুরের বাসিন্দা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমায় পাঠরত সবুজ সরকার জানান, পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতি ভালো না হওয়ার কারণে, জীবিকা মুখী পড়াশোনা বেছে নিয়েছেন মাধ্যমিক পাশ করার পরে। চাকুরির সংকট। তাই বর্তমান পরিস্থিতি এত অল্প বয়সে দেশসেবার সুযোগ এবং উপযুক্ত বেতনের কারণে সে খুশি। অস্থায়ী প্রসঙ্গে সে বলে চার বছরে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবো, ২৫% স্থায়ী সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবে। আমারও চেষ্টা থাকবে।

আড়পাড়া গ্রামের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সৌরভ বিশ্বাস বলে, এ রাজ্যে শিক্ষিত যুবকদের কোনও ভবিষ্যৎ নেই, প্রধামন্ত্রীর এ ধরনের পরিকল্পনা বেকার যুবকদের নতুন দিশা দেখাচ্ছে, তাই তাঁর মতন অনেক বন্ধুরাও ভিড় করছে বিভিন্ন সাইবার কাফেতে। বিরোধিতা প্রসঙ্গে সে বলে, রাজনৈতিক নেতাদের কাজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধিতা করা। ছাত্রসমাজকে প্রথমে ভুল বোঝানো হয়েছিলো পরবর্তীতে তারা যখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে, তখন তাদের কাছে জলের মতন পরিষ্কার হয়ে যায়।
মাত্র চার বছরের অস্থায়ী চাকরি প্রসঙ্গে সে বলে, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, সন্মান পাওয়ার সাথেই, সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে চাকরির সুযোগ। চার বছর বাদে ২৪ লক্ষ টাকাও কম নয়।
ওই সাইবার কাফেতে আসা সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা ইন্দ্রজিৎ সরকার অগ্নিপথ প্রকল্পে অনলাইন আবেদন করতে এসে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের জন্য। তিনি বলেন চাকরির মাধ্যমে দেশসেবা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।

