আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১০ জুলাই: স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল ভাঙড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের ঘর বাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়। ভাঙড়ের কাশিপুর থানার অন্তর্গত নাংলা গ্রামের ঘটনা। মৃতের নাম লিলুফা বিবি (৩০)। ঘটনার খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় মৃতের স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পরিবারের লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার ভাঙড়ের নাংলা গ্রামে হান্নান মোল্লার বাড়ি থেকে গৃহবধূ লিলুফার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বছর দশেক আগে ভাঙড়ের কচুয়া গ্রামের মহিদ্দিন মোল্লার মেয়ে লিলুফার সঙ্গে নাংলা গ্রামের হান্নান মোল্লার বিবাহ হয়। তাদের দুইটি সন্তানও আছে। বিবাহের পর থেকেই গৃহবধূর উপরে লাগাতার অত্যাচার শারিরীক নির্যাতন চলতো বলে অভিযোগ। শনিবার সকালে ওই গৃহবধূ লিলুফার মৃত্যুর খবর সামনে আসে। লিলুফার বাপের বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখেন মৃত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে সে। তাদের দাবি, মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে।
মৃতদেহ দেখার পর মুহূর্তের মধ্যে এলাকার বাসিন্দা সহ লিলুফার বাপের বাড়ির লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখেই আগেভাগেই বাড়ি ঘর ছেড়ে পালায় লিলুফার স্বামী সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাশীপুর থানার পুলিশ। উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। খুনের অভিযোগ তুলে সরব হওয়া জনতা অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি তোলেন। এর পাশাপাশি নাংলা গ্রামের তৃণমূল নেতা পিন্টু মোল্লার বিরূদ্ধে আসামীদের লুকিয়ে রাখার অভিযোগ তুলে তার বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। ঘরের ভিতরে ঢুকে চলে তল্লাশি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঐ স্থানীয় তৃণমূল নেতা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

