আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৮ জুন: গোটা তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই চলে ১০০ দিনের কাজের কাটমানির টাকায়। তাই এই টাকা আসা বন্ধ হলে দিদির ভাই ভাইপোদের সংসার চলবে না। আজ সাংবাদিক বৈঠক থেকে এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। নাম বদল করার অভিযোগে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। এর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে কটাক্ষও করেছেন সুকান্ত।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা সহ ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্রীয় সরকার আটকে দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটির ক্ষেত্রে রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র সরকার। আর ১০০ দিনের কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার হিসেব চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, যেটা না দিলে টাকা দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। আর তাতেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর দাবি এই টাকা কেন্দ্র সরকার এখান থেকেই নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায় সেই টাকা নিয়েই কেন্দ্র করেবত্তে খাচ্ছে। অথচ রাজ্যকে ন্যয্য পাওনা দিচ্ছে না। এমনকি তিনি এ–ও দাবি করেছেন যে অন্যান্য রাজ্যে নাম পরিবর্তন করা হলেও বাংলার ক্ষেত্রে বঞ্চনা করা হচ্ছে। এরজন্য তিনি দিল্লিতে যাবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুকান্ত মজুমদার আজ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, গোটা তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই চলে ১০০ দিনের কাজের টাকায়। তাঁর আরও দাবি, এই টাকা আসা বন্ধ হলে দিদির ভাই ভাইপোদের সংসার চলবে না। তাই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এখন বাড়িতে বাড়িতে দেওয়ালে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার কাজ চলেছে। সুকান্ত মজুমদারের কথায়, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মুখে বড় বড় কথা বলছেন, এদিকে তারই নির্দেশে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাড়িতে বাড়িতে দেওয়াল মুছে নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। অর্থাৎ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন, যে কেন্দ্রের টাকা যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর ভাই ভাইপোদের সংসার চলবে না।”
বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, “১০০ দিনের কাজের টাকায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই চলে এই একশো দিনের টাকায়।” এর উদাহরণ দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা ছোটবেলায় গল্প শুনতাম রাক্ষসের প্রাণ থাকে ভোমরার মধ্যে। সেই রকম তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রাণ হচ্ছে ১০০ দিনের কাজের টাকার কাটমানিতে আছে। সেখানে হাত পড়াতেই সব ছটফট করে উঠেছে রাক্ষসের দল।”
একই সঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, অন্যান্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে যে কথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সেটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। শুনতে খারাপ লাগলেও এটা বলতে বাধ্য হচ্ছি মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা কথা বলেছেন। সত্যের অপলাপ করছেন। এই সব প্রকল্পে সিংহভাগ টাকা যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকার দেয় তাই নাম পরিবর্তন করলে সেই টাকা কেন্দ্র দেবে না।

