সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২ জুন: উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও চিকিৎসক নেই, চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত বাঁকুড়া জেলার শালতোড়ার কাশতোড়া এলাকার মানুষ। বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া ব্লকের কাশতোড়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এরকমই বেহাল দশা। চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়েই ফার্মাসিস্টই ওষুধ দেন।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চারিদিকে ঝোপজঙ্গল বিষাক্ত কীট পতঙ্গের বাসা। হেলদোল নেই জেলা স্বাস্থ্য দফতরের। এলাকার মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ। হাসপাতালে চিকিৎসকও নেই। তাই চিকিৎসা হবে কী করে? অগত্যা ডাক্তারের অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে প্রায় বন্ধের মুখে বাঁকুড়ার শালতোড়ার এই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। সেখানে গেলে মনে হয় যেন কোনও ধ্বসংস্তূপ। যেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে উন্নত করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার সেখানে ধুঁকছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। ঝোপজঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। কারো কারো অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে চলে অবৈধ কারবার। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনও বালাই নেই। আশপাশের নানা গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার বাসিন্দা এই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপরই নির্ভরশীল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখানে কোনও চিকিৎসক আসেন না। তাই রোগ হলে তাঁরা এ দিকে আসেনই না। তাঁরা জানান, বছর কয়েক আগেও রোজ চিকিৎসকের দেখা মিলত। ওষুধও পাওয়া যেত। সে সব এখন অতীত। এখন প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও হয় না। এখন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সামলান স্বাস্থ্য কর্মী সোনালী গরাই ও ফার্মাসিস্ট গণেশ চন্দ্র মন্ডল।
গণেশবাবুর বক্তব্য, ডাক্তার না আসায় রোগীদের বিনা প্রেসক্রিপশনে জ্বর সর্দি কাশির সাথে দরকারি প্রাথমিক ওষুধ তিনিই দেন। এভাবেই চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। তাঁর দাবি, রোজ রাতে চোরের উপদ্রব হয়। হাসপাতালটিতে নেই কোনো পাহারাদারও।
স্থানীয় বাসিন্দা অমিয় মিশ্র জানান, “বেশ কয়েক বছর ধরে রোগী দেখা বন্ধ এখানে। শেষ কবে চিকিৎসক এসেছিলেন তাও জানা নেই।” ধনঞ্জয় মিশ্র নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “হাতের কাছে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও পরিষেবা না পেয়ে চিকিৎসা পেতে শালতোড়া ছুটতে হয় অথবা ৬০ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাই এলাকার মানুষজন চায় এখানে উন্নত মানের হাসপাতাল না গড়ে উঠুক নিদেনপক্ষে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্বাস্থ্য ফিরুক।
এ বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, সেখানে একজন ডাক্তার পোষ্টিং রয়েছেন। তবে আমাদের চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যা একটু কম পরিমাণে রয়েছে। আমরা এর কাগজপত্র স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হয়েছে। তারা তার পর্যালোচনা করছেন। তিনি বলেন, ওখানে হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বিএমওএইচ এর সাথে আলোচনা করে দেখছি।

