সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১ ডিসেম্বর: নতুন রূপে সাজিয়ে তোলা পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের বামনী ফলসের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকদের জন্য খুলতেই বিপত্তির মুখে পড়ল। ওই ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার জন্য দুই গোষ্ঠীর বিতণ্ডা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি আদিবাসী গ্রামবাসী কর্মসংস্থানের দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখান।
অন্যদিকে বাড়েরিয়া ও পাথরডি গ্রামের দোকানদাররা পুনরায় দোকান খুলতে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম সভার সদস্য জ্যোতির্ময় হাঁসদা ও নমিতা হাঁসদা জানান, “২০০৬ সালে বন, জল, জঙ্গল, ভূমি আইন অনুযায়ী আমাদের জঙ্গলে আমাদের কর্মসংস্থান ও আমাদের সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।”

যদিও বিষয়টি নিয়ে বাড়েরিয়া ও পাথরডি বন সুরক্ষা কমিটির সেক্রেটারি তথা স্থানীয় যুব তৃণমূল নেতা অজয় কুমার জানান, বামনী ফলস আমাদের এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এখানে দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামের মানুষ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তাই আমাদের দাবি, যে সকল ব্যক্তি এই বামনী ফলসে দোকান করে আসছিলেন তাদের পুনরায় দোকান খোলার অনুমতি দিতে হবে।

এদিকে দাবি না মানা হলে দুই পক্ষই আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার পর ফলসের প্রবেশ পথে উদ্বোধন হয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ ১ লা ডিসেম্বর পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলে গেলো অযোধ্যা পাহাড়ের বামনিফলস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিভাগীয় বনাধিকারিক দেবাশীষ শর্মা।

বিষয়টি নিয়ে তিনি জানান, কোভিড পরিস্থিতিতে সোন্দর্য্যায়নের জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বামনি ফলসের প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হল সর্ব সাধারণের জন্য। যেখানে পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে শৌচাগার। এছাড়াও পরবর্তী সময়ে আরও উন্নত করা হবে এই অযোধ্যা পাহাড়ে ও বামনী ফলস এলাকা। স্থানীয় সকলের সঙ্গে কথা বলেই সমস্যা মেটানো হবে বলে ডিএফও জানান।

আজ এই উদ্বোধনকে ঘিরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয় এলাকায়। মুড়ে ফেলা হয় কড়া নিরাপত্তার চাদরে। এদিন অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝালদার মহকুমা শাসক রীতম ঝাঁ, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুব্রত দেব, বাঘমুন্ডি ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দেবরাজ ঘোষ, অযোধ্যা বনাঞ্চল আধিকারিক মনোজ কুমার মল্ল সহ অন্যান্যরা।

