গঙ্গাজলে শুদ্ধিকরণ করে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করলেন বিজেপির নতুন সভাপতি

আমাদের ভারত, বারুইপুর, ২৯ ডিসেম্বর: বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির দক্ষিন ২৪ পরগনা পূর্ব সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পরিবর্তন হয়েছে। পূর্বতন সভাপতি হরিকৃষ্ণ দত্তের জায়গায় নতুন সভাপতি হয়েছেন সুনিপ দাস। আর সুনিপ সভাপতি হতেই জেলার চারিদিকের বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো ছিল। গত রবিবার নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা হলেও মঙ্গলবার বারুইপুর রাসমাঠ লাগোয়া কার্যালয়ে প্রবেশ করেন সুনিপ। নতুন সভাপতি দলীয় জেলা কার্যালয়ে ঢোকার আগেই এদিন গঙ্গাজল দিয়ে কার্যালয় শুদ্ধিকরণ করেন বিজেপি কর্মীরা।

এদিন তাঁকে স্বাগত জানাতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন রাসমাঠে। সুনিপ অবশ্য আগেও এই জেলার সভাপতি ছিলেন। একবার সভাপতি ও বেশ কয়েকবার জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন। গত পঞ্চায়েত ভোটে এই জেলায় যথেষ্ট ভালো ফল করেছিল বিজেপি। কিন্তু, বছর খানেক আগে এখান থেকে সরিয়ে তাঁকে আরামবাগ সংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেয় দল। সেখানে বর্ষীয়ান হরিকৃষ্ণ দত্তকে বছর খানেক এই সংগঠনের দায়িত্ব দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলায় বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। এই জেলায় একাধিকবার নিজেদের মধ্যে কোন্দলেও জড়িয়ে ও পড়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। সামনেই বিধানসভা ভোট, তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে এই জেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সুনিপের উপরেই ভরসা রেখেছে রাজ্য বিজেপি।

আজ সুনিপ দলীয় কার্যালয়ে আসার আগে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী রাসমাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন। বিকেল তিনটে নাগাদ সেখানে এসে পৌঁছন সুনিপ। একের পর এক বিজেপি কর্মীরা তাঁকে ফুল, মালা দিয়ে সম্বর্ধনা জানান। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ আজ যা ফুল মালা দেওয়ার দিয়ে দিন, কাল থেকে শুধুই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমে পড়তে হবে। সংগঠনকে আরও মজবুত করতে হবে। এই সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত যে ১২ টি বিধানসভার আসন রয়েছে সবকটিতেই পদ্মফুল ফোঁটাতে হবে।”

এদিন বিজেপি কর্মীরা যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন, সেই উচ্ছ্বাসই যেন ফুটে উঠেছিল সকলের মুখে। তবে এদিন কি কারনে গঙ্গাজল দিয়ে দলীয় কার্যালয় শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে সে বিষয়ে অবশ্য মুখ খুলতে চাননি সুনিপ। তিনি বলেন, “কে কি কারণে গঙ্গাজল ছিটিয়েছে জানি না। তবে আমাদের সংস্কৃতি মতে কোনও ভালো কাজে হাত দিতে গেলে গঙ্গাজল ছেটানো হয়।”

এদিন যিনি গঙ্গাজল ছেটাচ্ছিলেন সেই বিজেপি কর্মী রাজিব কর্মকার বলেন, “আমাদের সুনিপ দা আবার জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন, আমরা সকলে খুশি। যাতে ভালো ভাবে সংগঠনের কাজ আবার চলতে পারে সেই কারনেই আমরা গঙ্গাজল ছিটিয়েছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *