আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ৬ এপ্রিল: “ব্যাঙের বাচ্চাকে আমরা ব্যাঙাচি বলি। আর ওরা দেয় ভ্যাঙাচি। মানে আমাকে ভ্যাঙাচ্ছে। আমাকে যত ভ্যাঙাবে আমি তত খুশি। তার মানে আমার গুরুত্ব আছে বলেই তো ভ্যাঙাচ্ছে। না হলে কেন ভ্যাঙাবে?” প্রধানমন্ত্রীর দিদি ডাকের সমালোচনা করতে গিয়ে কালচিনির সভামঞ্চ থেকে এইভাবেই তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। পাশাপাশি তৃতীয় দফায় ভোটের সকাল থেকেই উত্তেজনার উল্লেখ করে তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতার অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি বিধানসভায় জাতীয় সড়কের পাশে রাসমেলা ময়দানে নির্বাচনী প্রচারে আসেন। সেখানেই প্রথম ৩ দফার ভোটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ তৃতীয় দফায় রাজ্যের ৩১টি আসনে ভোট চলছে। আমি সকাল থেকেই খবর পাচ্ছি যে সর্বত্রই বিজেপি হারছে। বিজেপি হারছে তাই তারা গুন্ডামি বেশি করছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার আবেদন আপনারা কি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিজেপি গুন্ডাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন? কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী সভামঞ্চ থেকে বলেন, “বিজেপি বাইরে থেকে লোক ঢুকিয়ে অশান্তি করবার চেষ্টা করছে। অসম থেকে গুন্ডা ঢুকিয়ে দেবে। সবাই সর্তক থাকবেন। যাতে কেউ কোনও রকম গুন্ডামি, মস্তানি করতে না পারে। মা-বোনেরা যদি আপনাদের কেউ ভয় দেখায়, কোনও সমস্যার মুখোমুখি হন তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কমাণ্ডান্টের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করুন।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি এতই ভাল হয় তাহলে তোমাদের হেপাজতে থাকা রাজ্যে ৩ দফার ভোটে কেন ৭-৮টা খুন হয়েছে। ৪ জন তৃণমূল কর্মী কেন খুন হল? পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এই ধরণের ঘটনা দেখা যায়নি। তবে কেন পঞ্চায়েত নির্বাচনের সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার। গুন্ডামি করে ভোটে যেতা যায় না। বুদ্ধি দিয়ে, হৃদয় দিয়ে মানুষের সমর্থন দিয়ে ভোট জিততে হয়। বাংলার নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বলেন,”বিজেপি কেবল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়।”

