উদয়পুরের কানাইয়ালালকে হত্যার আগে আইসিসের ভিডিও দেখেছিল দুষ্কৃতিরা

আমাদের ভারত, ২ জুলাই: উদয়পুরের দর্জি কানহাইয়ালালের দোকানে ঢুকে একেবারে আইসিসের কায়দাতেই তাঁর গলা কেটে খুন করেছিল দুই আঁততায়ী। তারপর থেকে যত দিন যাচ্ছে তত এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরোত খুলছে। জানা গেছে খুন করতে যাওয়ার আগে নাকি আইসিসের ভিডিও দেখে ছিল ওই দুজন।

উদয়পুরের দর্জি কানাইয়া লালকে খুনের ঘটনায় দুই অভিযুক্ত মহম্মদ রিয়াজ আখতার এবং মহম্মদ ঘোউষকে, বৃহস্পতিবার ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত। ঘোউসের এক প্রতিবেশী জানাচ্ছেন, খঞ্চিপীরের রাজা কলোনিতে বাবার সঙ্গে মিলে ছোট্ট একটি দোকান চালাত সে। অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ হিসেবে এলাকায় পরিচিত সে। এর আগে কোনও হিংসার ঘটনায় তার নাম জড়ায়নি।

আর এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, আগে একটি বিনিয়োগ সংস্থায় কালেকশন এজেন্ট হিসেবে কাজ করত সে। পরে প্রতারণার অভিযোগে সেই সংস্থা বন্ধ হয়ে গেলে দোকান খুলে বসে। তবে প্রতিবেশীরা এও জানিয়েছেন যে পরিবারের সম্মান, বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও মাথা ব্যাথা ছিল না ঘোউষের।

কিছু দূরেই মহম্মদ ওমরের বাড়ি। তার বাড়িতে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গত ১২ জুন থেকে থাকছিল রিয়াজ আনসারি। পেশায় ঢালাই কর্মী রিয়াজ একতলার দুটি ঘর নিয়ে থাকতো। সন্দেহজনক কোনও কাজে তাকে জড়িত থাকতে দেখেননি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। ঝালাইয়ের কাজে রিয়াজের এক সহকর্মী কাইয়ুম বেগ জানিয়েছেন গত দু’দশক ধরে উদয়পুরে থাকে রিয়াজ।

এই ঘটনায় সামনে আসছে পাকিস্তান যোগের সম্ভাবনাও। এবিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, নৃশংস খুনের আগে আইসিসের ভিডিও দেখেছিল অভিযুক্তরা‌। এমনকি খুনের আগে এবং পরে পাকিস্তানের সঙ্গেও নাকি যোগাযোগ করেছিল রিয়াজ ও ঘাউষ।

বুধবার দুজনে মিলে গলা কেটে খুন করে দর্জি কানাইয়া লালকে। এমনকি এই ঘটনার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় তারা। ঘটনায় তোলপাড় হয়ে যায় গোটা দেশ।

এসকে ইঞ্জিনিয়ারিং নামক একটি কারখানাতে তারা নিজেরাই খুনের জন্য অস্ত্রগুলি তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ। কানাইয়া লালকে হত্যার আগে ও পরে ওই কারখানাতে তারা কয়েকটি ভিডিও করেছিল বলে জানা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *