শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের বার্তা! দুর্গাপুর পুর্বে যুবসমাজকে নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২ এপ্রিল: ২০০০ সালের পর লোকসানে চলা একের পর এক শিল্প বন্ধ হতে শুরু করে। ধুঁকতে থাকা শিল্পশহরের প্রাণ ফেরানোর ডাক দিয়ে যুবসমাজকে নিয়ে ভোটের ময়দানে নামলেন দুর্গাপুর পুর্বের বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী। শুক্রবার কাঁকসার বাঁশকোপায় একটি হোটেলে যুবসম্মেলনে কর্ম সংস্থানের বার্তা দিয়ে যুবসমাজের মন জয়ের চেষ্টা করলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত  ২০১৭ পুরসভা নির্বাচন থেকে শিল্পশহরের বড় ইস্যু বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের পুনরুজ্জীবন। তার সঙ্গে সেইলের অ্যালয় স্টীল বিলগ্নিকরণ ঠেকানো। প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত এমএএমসি, এইচএফসি, বিওজিএল, বার্ন স্ট্যান্ডার্ডের মত কারখানা বন্ধ। রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে নষ্ট হচ্ছে কয়েক’শ কেটি টাকার সরকারি সম্পত্তি। আবারও শিল্পশহরে ওই ইস্যুকে সামনে রেখে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে সুর চড়িয়েছে সংযুক্ত মোর্চা ও তৃণমূল। অন্যদিকে বিগত পুর নির্বাচনে শিল্পশহরবাসীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাকে হাতিয়ার করেছে বিজপি। আর ওই ইস্যুকে সামনে রেখে  যুবসমাজকে উজ্জীবিত করতে আসরে নামল বিজেপি। একই সঙ্গে যুবসমাজের মধ্যে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের বার্তা দিলেন বিজেপির দুর্গাপুর পুর্বের প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী। 

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর পঞ্চাশের দশকে দামোদরের ওপর ব্যারেজ নির্মান করে দুর্গাপুরের বুকে একের পর রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা গড়ে। সেইলের দুর্গাপুর ষ্টীল, অ্যালয় স্টীল কারখানা বার্ন স্ট্যান্ডার্ড, এমএএমসি, বিওজিএল, হিন্দুস্থান ফার্টিলাইজারের মতো সারকারখানা গড়ে ওঠে। তার পাশাপাশি বেসরকারী নানান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠে। শিল্পের পাশাপাশি একের পর এক জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গবেষনাগার, নানান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, স্কুল কলেজ হাসপাতাল গড়ে ওঠে। তার সঙ্গে উন্নতি ঘটে দুর্গাপুর ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি। এপর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। ২০০০ সালের পর থেকে শিল্পশহরে অশনি সঙ্কেত নেমে আসে। এমএএমসি, বিওজিএল, এইচএফসি, বার্নস্ট্যান্ডের মত রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বন্ধ হয়। এখনও রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যালয় স্টীল কারখানার ওপর বিলগ্নিকরনের খাঁড়া ঝুলছে। এসবই এখন তৃণমূল ও সংযুক্ত মোর্চার বড় ইস্যু করেছে।

শুক্রবার কাঁকসার বাঁশকোপায় একটি হোটেলে বিজেপির যুব মোর্চার সম্মেলন করেন। প্রায় হাজারখানেক যুবকর্মী ওই সম্মেলনে হাজির ছিলেন। তাতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী। তিনি বলেন, গত ২০১৭ সালে দুর্গাপুর পুরভোটে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল শহরবাসীর ভেটাধিকার কেড়েছিল। পাড়ায় পাড়ায় রিগিং সন্ত্রাস করে মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরী করেছিল। এবারও তৃণমূল একই পথে হাঁটছে। তাই যুবকর্মীদের উজ্জীবিত করা। যুবকর্মীরা আগামী ভবিষ্যৎ। তাই সাধারণ মানুষ নিজের ভোট নিজে যাতে দিতে পারে, এলাকায় তৃণমূল কোনও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ভয়ের পরিবেশ তৈরী করতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে বলেছি।” তিনি আরও বলেন,” শিল্পশহর প্রাণের শহর। তৃণমূলের চোখরাঙানিতে বহু কারখানা ঝাপ বন্ধ করে পালিয়েছি। কাঁকসা, বাঁশকোপা শিল্পতালুকে অনেক বেসরকারী কারখানা বন্ধ, ধুঁকছে গোটা শিল্পাঞ্চল। তাই ক্ষমতায় আসলে শিল্পশহরের প্রাণ ফেরানোই মুল্য লক্ষ্য হবে। শিল্পায়ন হবে। নতুন নতুন শিল্প আসবে। বেকারদের কর্মসংস্থান হবে।  সোনার বাংলা তৈরী হবে।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *