সাংঘাতিক! দক্ষিণ দিনাজপুরে শিল্প দপ্তরেই প্রতারণা চক্র, দুঃস্থ মহিলাদের লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৩ মে: খোদ সরকারি অফিসেই প্রতারণা চক্র! বেকার ও গরিব ছেলে মেয়েদের লোন করে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শিল্প দপ্তরের। প্রকাশ বাগ নামে ওই দপ্তরের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে লোন করে দেবার নাম করে তোলাবাজি করবার অভিযোগও সামনে এসেছে। যে ঘটনা জানিয়ে জেলাশাসককে গণ অভিযোগ জানিয়েছেন মহিলারা। সোমবার এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই সরকারি আধিকারিক। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস মিলেছে জেলাশাসকের তরফে।

কৃষিপ্রধান জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে শিল্প বলতে সেরকম কিছু না থাকলেও এই জেলার ক্ষুদ্র শিল্প অনান্য অনেক জেলাকেই পিছনে ফেলেছে। যে কারনেই এজেলার শিল্প দপ্তর বেকার গরিব ছেলে মেয়েদের কাছে অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বেশকিছুদিন ধরে গ্রামের গরীব মহিলাদের কাছ থেকে তোলাবাজি করছিল ওই সরকারি আধিকারিক বলে অভিযোগ। সাইবার ক্রাইম থানার নিচে শিল্প দপ্তরে রীতিমতো ম্যানেজারের চেয়ারে বসেই চলছিল ওই তোলাবাজি বলেও অভিযোগ। এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শিল্প দপ্তরের ম্যানেজার প্রকাশ বাগের বিরুদ্ধে জেলাশাসককে দেওয়া একটি গন লিখিত অভিযোগ সামনে আসতেই রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। প্রতারিত মহিলাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান কর্মসূচি ও কর্মসাথী প্রকল্পে লোন করে দেবার নাম করেই তাদের কাছে থেকে প্রকাশ বাগ লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। লোন না মিলবার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পরেও সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় ওই সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে গন অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা।

মৌমিতা চক্রবর্তী ও অপর্না সরকার নামে দুই প্রতারিত মহিলারা জানান, মশলা তৈরি ও সোডা সাবান বানানোর উদ্যোগ নিয়ে দপ্তরে এসেছিলেন লোনের আবেদন জানাতে। যে সময় প্রকাশ বাগ নামে ওই আধিকারিক প্রথমে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান কর্মসূচি ও পরে কর্মসাথীর নাম করে তাদের কাছ থেকে দুদফায় ৬৫ হাজার টাকা করে নিয়েছে। শুধু তাই নয় আবেদন করবার ফর্মের জন্যও আড়াই হাজার টাকা নিয়েছেন তিনি। তাদের নজরে আসা মোট ৪০ জনের সাথে এধরণের প্রতারণা করেছেন। লোন তো দুরের কথা আজ অবধি তাদের টাকাও ফেরত দেননি তিনি। সরকারী দপ্তরে বসে গ্রামের লোকেদের সাথে এধরণের প্রতারণা বন্ধ হওয়া উচিত। বিষয়টি উদ্ধতন কতৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

যদিও প্রকাশ বাগ নামে শিল্প দপ্তরের ওই আধিকারিক তার বিরুদ্ধে তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে ফাসানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে।

জেলাশাসক আয়েষা রানী এ বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একজন উদ্ধতন আধিকারিককে এই ঘটনার তদন্তের দায়ওত্ব দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *