সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২২ জুন: তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলেও ঝালদায় পুরসভার উপ নির্বাচনে জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সন্মানের লড়াইয়ে জোর ভোট প্রচার করছে তারা। অন্যদিকে কংগ্রেস দরজায় দরজায় গিয়ে প্রচার ও ছোট ছোট বৈঠক করে নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখতে চাইছে। খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে শম্বুক গতিতে বিজেপির প্রচার চলছে। তা হলেও উপ নির্বাচনের প্রচার ঝালদায় জমে উঠেছে।

২৬ জুন ঝালদার ২ নম্বর ওয়ার্ডে উপ নির্বাচন। কার্যত ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে এখানে। বামেরা নিহত তপন কান্দুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রার্থী দেয়নি। কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে লড়াই। কংগ্রেস এখানে খানিকটা এগিয়ে থেকে লড়াই করছে। কারণ এই ওয়ার্ড থেকে তপন কান্দু হাত ছাপে জিতেছিলেন। ১৩ মার্চ তিনি খুন হন। তার আগে পর্যন্ত ১২ ওয়ার্ড বিশিষ্ট ঝালদা পুরসভায় ৫ টি আসনে কংগ্রেস, ৫ টিতে তৃণমূল জয়ী হয়। দুটিতে নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। এই অবস্থায় বোর্ড গঠনের আগেই নিহত হন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেসের বিজয়ী প্রার্থী। তার ফলেই এই অকাল নির্বাচন। তপন কান্দুকে নির্মমভাবে হত্যার পরই ঝালদায় তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ান অনেকেই। শোকার্ত পরিবার তথা কংগ্রেস নৈতিক সমর্থন পায়। তাই নিহতের পরিবারের থেকেই তপনের ভাইপো মিঠুন কান্দুকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস।

উল্লেখ্য, নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস দলের হয়ে জিতে কাউন্সিলর হন। আজ দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে ঝালদা শহরেই সভা করে কংগ্রেস। সেখানে মহিলা পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ভালই। প্রার্থী ছাড়াও ছিলেন কংগ্রেস জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো ও পূর্ণিমা কান্দু।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জগন্নাথ রজককে প্রার্থী করেছে। ক্ষমতায় থাকলেও এই উপ নির্বাচনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে শাসক তৃণমূল। প্রচারে জোর দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ঝালদা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মিছিল করে আজ। উপস্থিত জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া সহ জেলা নেতৃত্ব। স্থানীয় উন্নয়নকে পাথেয় করে এই নির্বাচন জিততে চাইছে তৃণমূল।

