সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১২ জুলাই: কাশ ফুল
ফোটেনি, নেই শরতের মেঘ, শুধুমাত্র ঢাকের বাদ্যিই জানান দিল পুজোর প্রস্তুতি শুরুর।কার্যত রীতি মেনেই আজ থেকে পুরুলিয়া জেলা জুড়ে শুরু হয়ে গেল শারদ উৎসবের প্রস্তুতি।
রথ যাত্রা উপলক্ষ্যে রীতি ও প্রথা মেনে কোথাও কুমোর পাড়া থেকে মৃন্ময়ী রূপী দুর্গা ঠাকুর দালানে প্রবেশ করলো। কোথাও আবার পরম্পরা মেনে দুর্গার কাঠামোতে মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হল। হল পূজো মণ্ডপের খুঁটি পুজো।

পুরুলিয়া জেলার গ্রামাঞ্চলের বনেদি বাড়ি এবং বারোয়ারী পুজোয় এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে এদিন। পুরুলিয়া শহরের সাধুরডাঙ্গা এলাকায় বাগালবাবার আশ্রমে সাত দশকের বেশি সময় ধরে পুজো হয়ে আসছে। আজকের এই বিশেষ দিনে কুমোর পাড়া থেকে তিন মাটি চড়ানো মৃন্ময়ী আচার নিয়ম মেনে ঠাকুর দালানে নিয়ে যাওয়া হল।
পুরুলিয়া শহরের নামোপাড়ায় নীলকন্ঠ পরিবারের প্রাচীন পুজোর প্রস্তুতি করোনা আবহেও। কাঠামোতে মৃৎ শিল্পী মাটি দিয়ে মূর্তি গড়ার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন আজ। প্রাচীন পারিবারিক পুজোর এই রীতি ও পরম্পরা মলিন হয়ে যায়নি। নীলকণ্ঠ চট্টোপাধ্যায় পরিবারের ঠাকুরদালানে রথযাত্রার দিন এই আচার দেখা গিয়েছে। সেখানেই দুই ঢাকির সুর তাল শারদোৎসবের আমন্ত্রণ জানালো।

নামোপাড়ার বাসিন্দা সুদিন অধিকারী বলেন,”পারিবারিক পুজোর এই রীতি আমাদের আবেগ উসকে দেয়। পুজো প্রস্তুতি এক-একটা পর্যায় আমাদের প্রত্যাশায় পৌঁছে দেয়। নামোপাড়ার নীলকণ্ঠ চট্টোপাধ্যায় পরিবারের এই পুজো পারিবারিক হলেও প্রতিটি পুজোর পর্যায়ে সমান ভাবে উপভোগ করি আমরা।”
পুরুলিয়া শহরের দুলমি নডিহা রিক্রিয়েশন ক্লাব প্রাঙ্গনে খুঁটি পুজো এবং স্থায়ী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হল। কাঠামোতে মাটি দেওয়া হল। উৎসবের সূচনা করতে অনুষ্ঠানে অংশ নেন ক্লাবের সদস্য ও তাঁদের পরিবার।
ক্লাবের সম্পাদক অপূর্ব কর গুপ্ত বলেন, “আমাদের পুজো নয় বছরে পড়ল। প্রাচীন না হলেও একটা ধারা বহনের শরিক হলাম আমরা।”

