রাজেন রায়, কলকাতা, ২ জুলাই: বারবার বলা সত্ত্বেও কিছুতেই নম্বর সহ মেধাতালিকা প্রকাশ করছে না স্কুল সার্ভিস কমিশন। এই কারণে এবার প্রকাশ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশন অপদার্থ বলে মন্তব্য করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন সাত দিনের মধ্যে নম্বর সহ মেধাতালিকা প্রকাশ করুন। তবে এই মামলায় স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে বিবেচনা করবে হাইকোর্ট।
এদিন সকালে প্রথমে মামলা শুরু হলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে সশরীরে ডেকে পাঠান বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দুপুরে তিনি আসার পর ফের মামলা শুরু হলে চেয়ারম্যানকে সরাসরি বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কেন বারবার বলা সত্ত্বেও নম্বরসহ মেধাতালিকা প্রকাশ করছে না স্কুল সার্ভিস কমিশন? আপনাদের গাফিলতির জন্য সাত বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। এর প্রত্যুত্তরে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, অভিযোগ চলতেই থাকবে, দয়া করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে দিন। তখনই ফের ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে অপদার্থ বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
সম্প্রতি উচ্চ প্রাথমিক এবং প্রাথমিকে পুজোর আগে পরে মিলিয়ে একগুচ্ছ নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে গত ২১ জুন প্রকাশ করা হয় উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ তালিকা। উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে এ নিয়ে ঘোষণা করেছিলেন।
কিন্তু গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী টুইটে লিখেছিলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন উচ্চ প্রাথমিকের যে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভাবে মেধার ভিত্তিতে তৈরি। কিন্তু অবাক করার মতো প্রশ্ন হল, মেধার নম্বরটা কোথায়? এরপর এ নিয়ে জনস্বার্থ মামলাও করা হয়েছিল। এসএসসির বিরুদ্ধে অভিযোগ, কম নম্বর প্রাপ্তরা ইন্টারভিউ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। তুলনায় বেশি নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীদের জায়গা হয়নি। প্রকাশিত তালিকা বাতিল করে নিয়ম মেনে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করা হোক, এমন আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন নিয়োগ প্রার্থীরা। এর আগে ২০১৯ সালে ১ অক্টোবর একই নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু তারপরেও ফের নম্বর ছাড়াই মেধাতালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সেখানেই স্কুল সার্ভিস কমিশনকে অপদার্থ বলে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে নম্বরসহ তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে যারা যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাদের বিষয়ভিত্তিক নম্বর দিয়ে জানাতে হবে। আগামী ৯ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

