স্কুলের একাধিক গাছ কেটে বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক, প্রতিবাদে ইটাহারের সুরুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আটকে রেখে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৩ জুলাই: প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে থাকা একাধিক গাছ বেআইনিভাবে বিক্রি করে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষকদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখালো স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের সুরুন ১ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের সুরুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ইটাহার থানার পুলিশ ও রায়গঞ্জ বন বিভাগের আধিকারিকরা। গ্রামবাসীদের সাথে পুলিশ ও বন দপ্তরের আধিকারিকরা আলোচনায় বসে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

ইটাহার ব্লকের সুরুন ১ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের সুরুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বন দপ্তর কিংবা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কোনও অনুমতি না নিয়েই স্কুলে থাকা বেশ কয়েকটি বড় বড় গাছ কেটে তা বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের অবৈধভাবে এই গাছ বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঘরে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান সুরুন গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক অভিভাবিকারা। বিদ্যালয়ের গাছ কাটার কথা স্বীকার করে নেন একজন সহকারী শিক্ষিক। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিদ্যালয় চত্বরে বড় বড় গাছ গুলো থাকায় বিদ্যালয়ের ছায়া সহ পথ চলতি সাধারণ মানুষের সুবিধা হতো। তাছাড়া কি কারণে বা কি উদ্দেশ্যে গাছ গুলো কাটলো এবং বিক্রি করে দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর গাছ বিক্রির টাকাই বা কি করলো তা নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামের বাসিন্দারা।

এদিনের বিক্ষোভের জেরে পঠন পাঠন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঘরে আটকে রাখা হয়। সহকারী শিক্ষকদের আটকে রেখে বিক্ষোভ হলেও দেখা মেলেনি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমানের। বিক্ষোভ ও উত্তেজনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ইটাহার থানার পুলিশ সহ বন দপ্তরের আধিকারিকরা এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য। গ্রামিবাসীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন তাঁরা। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে সরব হন গ্রামের বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *