কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিতেই শেষ হল প্রথম দফার ভোট

ছবি: ভগবানপুরে রাস্তায় আটকানো হচ্ছে ভোটারদের।

আমাদের ভারত, ২৭ মার্চ: সকাল থেকেই চরম উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রথম দফার ভোট গ্রহণ। কেশিয়াড়িতে বাড়ির উঠোনে উদ্ধার হয় এক বিজেপি কর্মীর দেহ। শালবনিতে সিপিএম প্রার্থীকে হেনস্তা করা হয়। তাঁর গাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়। কাঁথিতে বিজেপি নেতার গাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়। ভগবানপুরে বিজেপি প্রার্থীকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছু জায়গায় ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দিনভর এই উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রথম দফার ভোট গ্রহণ।

গতকাল রাত থেকেই উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে।
বান্দোয়ানে ভোট কর্মীদের খাবার পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে একটি গাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। অভিযোগ, মাওবাদী কায়দায় রাসায়নিক দিয়ে গড়ুড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সাগা সুপুরুডি গ্রামের মাঝে একটি ফাঁকা জায়গায় রাস্তার উপর টাটা ম্যাজিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর গভীররাতে ভগবানপুর বিধানসভা একালায় বোমায় আহত হন ওসি এবং এক সেনাজওয়ান। ভগবানপুর বিধানসভার সাতমাইলে রাতভর বোমাবাজি চলে। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বোমার আঘাতে জখম হন পটাশপুর থানার ওসি দীপককুমার চক্রবর্তী এবং সেনাজওয়ান। দুজনকেই ভর্তি প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে তাঁদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

সকালে ভোট শুরু হতে না হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ী। বিজেপির এক বুথ এজেন্টের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কেশিয়াড়ীর বেগমপুরে এক বিজেপি কর্মীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বাড়ির উঠোনে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। তার মাথায় এবং ঘাড়ের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ, নিহত কর্মীর নাম মঙ্গল সরেন, তাঁকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে খুন করেছে। নিহত বিজেপি কর্মীর মা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলেকে অন্য কোথাও খুন করে বাড়িতে এনে মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি ওই ব্যক্তি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না।

ভোট শুরু হতে না হতেই শালবনিতে আক্রান্ত হন সিপিএম প্রার্থী সুশান্ত ঘোষ। তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং তাঁর গাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়। অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

সুশান্ত ঘোষের অভিযোগ, সকালে তিনি জানতে পারেন শালবনির গুঁইয়াদহ এলাকায় তাঁদের এজেন্টদের বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। এই খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্যহয়ে অন্যজায়গা থেকে লোক এনে বুথে বসানো হচ্ছে। সেই সময় একদল তৃণমূল সমর্থক তাঁর দিকে এগিয়ে আসে। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। উপস্থিত পুলিশকর্মীরা সুশান্তবাবুকে কোনও রকমে সরিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এরপর তাঁর গাড়ি ঘিরে তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সুশান্ত ঘোষের গাড়িতে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। সুশান্তবাবুর অভিযোগ, গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে এবং তাঁর গাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়। এমনকি গাড়ি চলতে শুরু করলে তার পিছু ধাওয়া করেন তৃণমূল কর্মীরা। তিনি সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে কোনওরকমে রক্ষা পান। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেখুন ভিডিও….

https://youtu.be/X5CEnbYbk7এ

আজ সকালে রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ২২২ নং বুথে বিজেপি প্রার্থী স্বদেশ রঞ্জন নায়েকে উপর দুষ্কৃতিদের হামলা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতকারী হামলা চালিয়েছে। এগরায় বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের গাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়। কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা কেনন্দ্রের সাবাজপুট এলাকায় বিজেপি নেতা সৌমেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাঁর গাড়ি ব্যাপকভাবে ভাঙ্গচুর করা হয়েছে।

ভগবানপুরে পাকিস্তানী জেহাদীরা ভোটদানে বাধা দিচ্ছে অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, ভগবানপুরে ২৭৯ এবং ২৮০ নম্বর বুথে বিজেপি কর্মীদের সমর্থকদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়। রাস্তাতেই লাঠিসোঁটা নিয়ে ভোটারদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, তৃণমূলের জেহাদীরা ভোটদানে বাধা দিচ্ছে।

দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভায় ইভিএমে কারচুপি করা হচ্ছে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভার মাজনার একটি বুথে। তাদের অভিযোগ, তৃণমূলকে ভোট দিলে তা বিজেপি প্রার্থীর প্রতীকে গিয়ে পড়ছে। বুথের প্রিসাইডিং অফিসার অবশ্য জানান, ভোটারদের ভিভিপ্যাট দেখানো হচ্ছে। এখানে কোনও কারচুপি নেই। তা সত্ত্বেও তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ চলতেই থাকে। শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ করা হয় নির্বাচন কমিশনে। পরে সেক্টর অফিসাররা সেখানে যান এবং তারা বেশকিছু পরীক্ষামূলক ভোট করেন। দেখা যায় ইভিএম ঠিকঠাক রয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর ফের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। তারা যে পরীক্ষামূলক ভোট দিয়েছিলেন সেগুলো বাদ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *