আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৩ আগস্ট: গরিবের সংসার। ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় নাবালিকা কন্যাকে বিক্রির অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল থানার উত্তর গোপালপুর গ্রামে।
গ্রামের বাসিন্দা শুকদেব চক্রবর্তির বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। শুকদেব তার নাবালিকা মেয়েকে ১ আগস্ট রঙ্গীবসানের এক যুবকের কাছে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ। পঞ্চায়েতের তৎপরতায় তিন দিনের মাথায় উদ্ধার হয় বিক্রি হওয়া নাবালিকা। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে নাবালিকার মা ও ছেলের বাবা। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মহিষাদল থানার পুলিশ। থানায় অভিযোগ করার পর মহিষাদল থানার পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজে বাড়িতে যায়। যদিও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্তের স্ত্রী মৌসুমি চক্রবর্তি জানান, স্বামী নেশা করে বহু টাকা ঋণ করেছে। বাড়িতে দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়েকে পড়াশোনা, ভালো পরিবারে রেখে বড় করে তোলার কথা বলে মেয়েকে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। জেনেই বিষয়টি স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েতকে জানাই। পরে মহিষাদল থানায় অভিযোগ দায়ের করি।
অভিযুক্ত ছেলের বাবা নারায়ণ চন্দ্র চক্রবর্তি জানান, ছেলের অত্যাচার আর সহ্য করা যাচ্ছে না। তাই ছেলের সাজার আবেদন জানিয়েছি। কঠোর থেকে কঠোর সাজা হোক।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুখেন্দু দাস জানান, খবর পাই আমার এলাকার একটি ছেলে নাবালিকা মেয়েটিকে পাশের গ্রাম নাটশাল-২ গ্রামপঞ্চায়েতের রঙ্গীবসান এলাকায় এক মহিলার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। যৌন পল্লীতে বিক্রির কথা শুনে আমরা বিষয়টি স্থানীয় থানায় ও বিডিওর কাছে জানাই।
মহিষাদল ব্লকের বিডিও যোগেশ চন্দ্র মন্ডল জানান, অভিযুক্ত পলাতক। পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে, মেয়েটিকে হোমে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

