আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল: ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নিয়োগ দুর্নীতিতে হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৬ সালে স্কুল শিক্ষা কমিশনের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যের এই দুর্নীতি এবং ২৬ হাজার চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির তরফে নয়া দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র।
তাঁরা বলেন, এই মামলায় আগামী ৮ তারিখ আরও একটি শুনানি রয়েছে। সেখানে সরকার তার দুষ্কর্মের সাজা পাবে। তাঁরা বলেন, বিচার ব্যবস্থার উপর তাদের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। একই সঙ্গে যোগ্য চাকরিহারাদের উদ্দেশ্যে আশ্বাস দিয়ে বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করতে। যোগ্যদের জন্য যদি ফের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা করতে।
তিন মাস বাদে আবার সিলেকশন প্রক্রিয়ার কথা বলেছে আদালত। সে ক্ষেত্রে এসএসসি’র নিয়মে পরিবর্তন আনা দরকার বলে মনে করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমি পরামর্শ দিতে চাই যোগ্য শিক্ষকদের জন্য প্রতিবছর নম্বর দিন। যারা পরীক্ষায় বসবেন তাদের রিলিফ নম্বর দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তাঁরা দাবি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে যোগ্যদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
এরপরে তৃণমূল কংগ্রেসকে এক হাত নিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে গদি ছাড়তে হবে। হয় নিজে ছাড়ুন না হলে জনগণ কান ধরে টেনে নামাবে। তিনি বলেন, সিবিআই তদন্ত চলছে। কালীঘাটের কাকুর অডিও ক্লিপও রয়েছে। সেখানে শোনা যাচ্ছে, পার্থ খুব লোভি ওকে ২৫ কোটি দাও। অভিষেককে ২০ কোটি দাও এই অভিষেককে সবাই জানে।
তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, ২০ হাজারের বেশি মানুষ নির্দোষ তাদের চাকরি চলে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গকে শপিং মল বানিয়ে রেখেছে। শিক্ষকের চাকরি থেকে বালি, যে যা চাইবেন সব কিনতে পারবেন এখানে টাকার বিনিময়ে।
অভিযোগ করে তাঁরা বলেন, হাইকোর্ট বলেছিল যে দোষীদের চিহ্নিত করুন। এটাও বলে দিয়েছিল যে আনুমানিক ৫ হাজার কর্মী টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শদাতা বলেছিল যে সরকার বাঁচাতে চাইলে দুধ আর জল মিশিয়ে দিন, এখন পাশা উল্টে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালাকি ধরা পড়ে গেছে। তারা আরো দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে শিক্ষকদের চাকরি বাঁচাতে পারতেন।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা মনে করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গতকাল শিক্ষকরা কাঁদছিলেন। আমার প্রথম চাকরি স্কুল সার্ভিস কমিশন দিয়ে। আমার স্ত্রী এখনও চাকরি করেন। বাংলায় সব সময় শিক্ষকদের শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি টপার, গোল্ড মেডেলিস্টরা কাঁদছিলেন। কিভাবে পরিবার চালাবেন? মা-বাবার চিকিৎসার খরচ কিভাবে চালাবেন সেটা ভেবে। এর জন্য দোষী একজনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, যাদের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে তাদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।
তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপার নিউমেরিক পোস্ট বানিয়ে দোষীদের বাঁচিয়েছেন। তার জন্য আলাদা করে ক্যাবিনেট বসেছিল। প্রধান সহ পুরো ক্যাবিনেটের এর জন্য জেলে যেতে হবে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে সকলকে দোষারোপ করেছেন। সুকান্ত মজুমদার থেকে সিপিআইএম নেতা, আদালত, বিচার ব্যবস্থা, সকলকে দোষ দিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূলের যে নেতারা টাকা নিয়েছে তাদের নাম বললেন না। আজ এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা দেশের এটা একটা আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্বিত পাত্র বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। ওনাকে ইস্তফা দিতে হবে। যদি একটুও মানবিকতা বেঁচে থাকে তবে আজই ইস্তফা দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, দুবার ইডির অভিযানে ৪৯ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল অর্পিতার বাড়ি থেকে। কিভাবে কোটি কোটি টাকা হাতানো যায় তার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ২০২২ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রী থাকাকালীন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেই সময় বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য, জীবন কৃষ্ণ সাহা, শান্তনু কুন্ডু, কুন্তল ঘোষ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বাংলায় একনায়কতন্ত্র চলছে, তালিবানি শাসন চলছে। এই শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার জনতাকে একজোট হতে হবে।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এটা বিজেপি বলছে না, সুপ্রিম কোর্ট বলছে, হাইকোর্ট বলছে।