পানীয় জলের হাহাকার, অন্ডালের কাজোড়া গ্রামে ভোট বয়কটের ডাক

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩০ মার্চ: গরমের শুরুতে পানীয় জলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েগেছে। ভোট আসে ভোট যায়। তবুও জল সমস্যার সুরাহা হয়নি। আর তাই পানীয় জলের দাবিতে এবার সরব হল গোটা গ্রাম। ‘জল নাই, জল দিন। জল ছাড়া ভোট নাই।’ এই শ্লো-গানকে সামনের রেখে এবার ভোট বয়কটের ডাক দিল অন্ডালের কাজোড়া গ্রাম। ইতিমধ্যে ভোট বয়কটের বার্তা দিয়ে দেওয়াল লিখনও শুরু করেছে গ্রামবাসীরা। আর সমস্যার সমাধান নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

অন্ডাল ব্লকের কাজোড়া পঞ্চায়েতের কাজোড়া গ্রাম। খনি অঞ্চলের এই গ্রামটি আসানসোল লোকসভা ও রানীগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত। হাজার খানেক পরিবারের বসবাস। গ্রামের বড় সমস্য পানীয় জল। দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে জলকষ্টে নাজেহাল গোটা গ্রাম। পানীয় জলের একমাত্র ভরসা কুঁয়ো। কিন্তু শীতের অন্তিম লগ্ন থেকে কুঁয়োর জলস্তর নামতে শুরু করে। ফলে তখন থেকে জলকষ্ট শুরু হয়। গ্রীষ্মকালে যা চরমে পৌঁছায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বহুবার স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে ব্লক ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। সমস্যার সমাধান হয় না। ভোট আসে ভোট যায়। প্রচারে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের নেতারা ফিরিস্তি দেয়। কিন্তু গ্রামের সমস্যার সমাধান হয় না।”

আর কয়েকদিন পরই বিধানসভা নির্বাচন। এবারে ভোটের আগে গোটা গ্রাম জলের দাবিতে গর্জে উঠেছে। গ্রামের কয়েকজন যুবক সেশ্যাল সাইটে ভোটবয়কটের ডাক দিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করে। তারপর গ্রামে পোস্টারিং, দেওয়াল লিখন শুরু করে। এমনকি রাজনৈতিক প্রচারের দেওয়াল লিখনের ওপরও পেস্টারিং মেরে দিয়েছে গ্রামবাসীরা।

তাতে একটাই দাবি, ‘জল নাই ভোট নাই’,  ‘নো ওয়াটার- নো ভোট’, ‘জল নাই জল দিন, জল ছাড়া ভোট নাই।’ স্থানীয় বাসিন্দা মিলন পন্ডা জানান, “জলকষ্টে নাকাল গোটা গ্রাম। গরমের সময় কয়েক ট্যাঙ্কার জল দেয় পঞ্চায়েত থেকে। তাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে চরম দুর্ভোগ ও হয়রানিতে পড়তে হয় আমাদের। আর ভোটের আগে নেতাদের ফিরিস্তি শুনে ক্লান্ত। ওরা শুধু নিজেদের দোষ ঢাকতে কাদা ছোড়াছুড়ি করে। সমস্যা নিয়ে কেউ ভাবে না। তাই এবার ভোট বয়কটের ডাক।”

ক্ষব্ধ বাসিন্দারা জানান, “গ্রামে কোনও রাজনৈতিক প্রচার করতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রচারে আসলে জল সমস্যার সমাধান কেন করেনি, তার কৈফিয়ত চাওয়া হবে। এবিষয়ে আগামী ৪ এপ্রিল গ্রামসভার ডাক দেওয়া হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, রানীগঞ্জ বিধানসভা গত বারে সিপিএম-কংগ্রেস জোটের দখলে ছিল। এবারে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছে হেমন্ত প্রভাকর। তিনি বলেন, “বামফ্রন্টের সময় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারপর সরকার পরিবর্তন হয়। গতবারের আমাদের বিধায়ক কাজোড়া গ্রামের জল সমস্যার বিষয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি করেছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার উদাসীন।” তিনি বলেন, “ভোটে জিতলে ওই গ্রামের জল সমস্যা সমাধান করব।”

স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান রামকৃষ্ণ নুনিয়া বলেন, “পানীয় জলের সমস্যার বিষয়টি রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। এলাকার বিধায়ক, সাংসদরা বিষয়টি নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি।” 

এবারের রানীগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “রাজ্যে তৃণমূল সরকার। পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ তাদের দখলে। বিগত ১০ বছরে তৃণমূল সরকারের চরম ব্যার্থতার নজির কাজোড়ার জল সমস্যা। মেলা আর ক্লাবে খয়রাতি করছে তৃণমূল সরকার। সাধারন মানুষের সমস্যার সুরাহা করেনি। মানুষ এবার তার জবাব দেবে। ভোটে জিতলে অবশ্যই ওই গ্রামের জল সমস্যার সমাধান করব।” 

এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছে তাপস ব্যানার্জি। তিনি এডিডিএ র চেয়ারম্যান। তিনি সাফাই দেন, “জলের সমস্যা আছে। সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।” পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক পুর্নেন্দু কুমার মাজি বলেন, “এখনও কোনও অভিযোগ আসেনি। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *