পোর্টাল-বিভ্রাটে রাজ্যে আটকে দ্বিতীয় দফার টিকাকরণ, বুধবার থেকেই কলকাতায় কো-ভ্যাকসিন

রাজেন রায়, কলকাতা, ২ ফেব্রুয়ারি: মঙ্গলবার থেকে দ্বিতীয় দফার টিকাকরণের নির্দেশ দিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কিন্তু কেন্দ্রের নিয়মের কারণ দেখেই তা একদিন পিছিয়ে দিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। টিকাকরণের প্রথম দিন থেকেই কো-উইন অ্যাপ ঠিকমতো কাজ না করায় ডিজিটাল নাম নথিভুক্তিকরণে সমস্যা হচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের। এই পরিস্থিতি ঠিক না করলে এখনই দ্বিতীয় দফার টিকাকরণ সম্ভব নয় বলে দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। তবে বুধবার থেকে কলকাতার ৩ হাসপাতালে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আরেক প্রতিষেধক কো-ভ্যাকসিন চালু করার বিষয় সবুজ সংকেত দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

প্রত্যেক টিকাকরণের পর যাতে সেই তথ্য সরকারের ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকে, তার কো-উইন অ্যাপ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ১৬ জানুয়ারি প্রথম দিন থেকেই প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাতে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না ফলে মূল প্রক্রিয়া গতি রুদ্ধ হয়ে পড়ছে। এদিকে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ না করে পরবর্তী পর্যায়ে চাপ নিতে চাইছে না স্বাস্থ্য দফতর। প্রথম সারির চিকিৎসক নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকাংশেরই টিকাকরণ দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফায় তাদের একাংশ ছাড়াও রাজ্যের পুলিশকর্মী, পুরকর্মী, সশস্ত্র সেনা বাহিনী, হোম গার্ড, সংশোধনাগার কর্মী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রের চিঠিতে এই সকল কর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যভবনের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা সম্ভব নয়। কারণ কেন্দ্রের পোর্টাল প্রথম থেকেই ঠিকভাবে কাজ করছে না। ফলে সমন্বয়ের অভাবে ঠিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, যে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধারা এই দ্বিতীয় দফায় ভ্যাকসিন পাবেন, তাঁরা নিজেদের নাম ‘কোউইন’-এ নথিভুক্ত করিয়েছেন। ফলে কেন্দ্রের পোর্টাল ঠিকমতো কাজ না করলে তাঁদের ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব নয়। রাজ্যের যুক্তির জবাবে কেন্দ্রের আশ্বাস ছিল, সোমবার রাত ১২টার মধ্যে পোর্টালের সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু স্বাস্থ্যভবন জানিয়ে দিয়েছে, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পোর্টাল ঠিকমতো কাজ করছে না। ফল এই পরিস্থিতিতে কেউ এসে তার নাম নথিভুক্তকরণের দাবি করলেও অনেক সময় তা সত্য মিথ্যা যাচাই করতে বহু সময় লেগে যাচ্ছে, আবার অনেক সময় সার্ভারের সমস্যা থেকে যাচ্ছে। কেন্দ্রের চিঠি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার্সদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শীঘ্রই শুরু হয়ে যাবে। তবে আগে পোর্টালের সমস্যা মেটাতে হবে।” স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে ২৬৫৯৩৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী টিকা নিয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাকরণের ৬৯ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। এরপরে স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে অন্যান্য ফ্রন্টলাইন কোভিড যোদ্ধাদের টিকাকরণ শুরু হওয়ার কথা।

তবে এবার কোভিশিল্ডের পর বুধবার থেকে রাজ্যে কোভ্যাক্সিন টিকা দেওয়া শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে এসএসকেএম, আরজি কর, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ মিলিয়ে মোট ৬০ জনকে দেওয়া হবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই টিকা। প্রতি কেন্দ্রে টিকা পাবেন ২০ জন করে। শেষ মুহূর্তে যদি সিদ্ধান্ত বদল না হয় তা হলে এদিন থেকে কোভিড-টিকাকরণে নতুন পদক্ষেপ করবে রাজ্য। পরবর্তী সময়ে এই দেশীয় ভ্যাকসিন জেলায় জেলায় মেডিকেল কলেজ গুলিতেও দেওয়া হবে। একসঙ্গে দুই রকম ভ্যাকসিন চালু হলে যোগানের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা স্বাস্থ্য ভবনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *