রাজেন রায়, কলকাতা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: বিধানসভা ভোটের মুখে ফের নবান্ন থেকে চমকপ্রদ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে
রাজ্যজুড়ে মাত্র ৫ টাকায় পেট ভরে ডিম-ভাত খাওয়ানোর কর্মসূচি ‘মায়ের রান্নাঘর’ বা ‘মা কিচেন’-এর ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখানে মাত্র পাঁচ টাকায় মিলবে ডিম-ভাত। পাশাপাশি থাকবে ডাল এবং একটি সবজিও। আপাতত কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো অফিসের ক্যান্টিনে এই খাবার মিলবে। তবে আগামী দিনে গোটা রাজ্যে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে, এমনটা জানিয়েও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে রাজ্য সরকারের সস্তার ক্যান্টিন চালু নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পকে কটাক্ষ করে এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “একটা সময় লঙ্গর চালানো হত৷ এখন মানুষের কাছে খাওয়ার টাকা নেই৷ এই কর্মসূচির মাধ্যমে দিদিমণি প্রমাণ করে দিলেন তাঁর সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মানুষকে ভিখারি করে রেখেছে দিদিমণির সরকার।”
তবে মায়ের রান্নাঘর’ বা ‘মা কিচেন’ ছাড়াও নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওয়েবল মোড়ে ৪টি আইটি পার্কের উদ্বোধন করেন। এরপর শ্রী শ্রী পূর্ণব্রহ্ম গুরুচাঁদ ঠাকুরের মূর্তি উন্মোচন করেন। এছাড়া চিত্তরঞ্জন সেবা সদন হাসপাতালে ‘মাতৃ মা’ ভবনও উদ্বোধন করেন। তবে এদিন তার তুরুপের তাস ছিল মায়ের রান্নাঘর’ বা ‘মা কিচেন’। উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান,“এই কর্মসূচিটি সাধারণ মানুষের জন্য। গরিব মানুষদের জন্য মায়ের নামে এই কিচেনগুলো চালু করা হচ্ছে। পুরোটাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগ। পরীক্ষামূলকভাবে আপাতত শুরু করা হচ্ছে। তবে আস্তে আস্তে গোটা রাজ্যে তা শুরু করা হবে। আর এই কিচেন চালাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা।” তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দিচ্ছে সরকার। বহু গরিব মানুষ বাইরে কাজ করেন ঘরে খাওয়ার সুযোগ হয় না। তাঁদের জন্য মায়ের নামে প্রকল্প চালু করছি। বাংলায় ব্যবসার একটি পরিকাঠামোও গড়ে উঠবে। রাজ্যের মানুষের খাওয়ার কোনও সমস্যা থাকবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সরকার ভর্তুকি দেবে প্লেট পিছু ১৫ টাকা। দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত দেওয়া হবে খাবার। মমতার কথায়,’এটা নজিরবিহীন প্রকল্প। প্রথমে কিছু সমস্যা হবে। খাবার ফুরিয়ে যেতে পারে। পরে চাহিদা দেখে বন্দোবস্ত করা হবে। বাজেটে ঘোষণার পর ৭-৮ দিনেই চালু করেছি। প্রকল্পের জন্য বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ১০০ কোটি।’ এরপর ভার্চুয়ালি বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ার ও হাওড়ার ‘মা কিচেন প্রকল্প’ খতিয়ে দেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ব্যবস্থাপনা দেখে খুশি মুখ্যমন্ত্রী মজার ছলে বলেন, ‘আমি কিন্তু একদিন খেতে যাব। এটা বাংলা মা-বোন-ভাইদের উৎসর্গ করলাম।’


good post