রাজেন রায়, কলকাতা, ২৫ ফেব্রুয়ারি: পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবার এক অভিনব পন্থা নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা দেখে রীতিমতো রাস্তায় চমকে গেলেন পথচলতি মানুষ। রাজপথে ই-স্কুটারে চালকের আসনে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে যাওয়ার পথে তিনি ফিরহাদ হাকিমের পিছনে বসে গেলেও ফেরার সময় নিজেই ছিলেন চালকের আসনে। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এখন থেকে এভাবেই তিনি নবান্নে যাতায়াত করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিনব প্রতিবাদ রীতিমতো নজর কেড়েছিল সাধারণ মানুষের। বুধবার রাতেই তিনি আচমকা ঘোষণা করেছিলেন, বৃহস্পতিবার গাড়িতে নয়, তিনি যাবেন ই-স্কুটারে চড়ে। সেইমতো এদিন বেলা ১১টা নাগাদ হাজরা মোড় থেকে ইলেকট্রিক স্কুটারে চড়ে মমতা পৌঁছান নবান্নে। চালকের আসনে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। দুজনেরই গলায় ঝোলানো ছিল পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যানার। তবে এখানেই শেষ নয় বিকেল বেলাতে আরও এক প্রস্থ চমক অপেক্ষা করছিল সাধারণ মানুষের জন্য।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্ন থেকে বেড়িয়ে তিনি নিজেই চড়ে বসলেন ইলেকট্রিক স্কুটারে। তাঁকে স্কুটার চালাতে সাহায্য করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। পাশে ছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। কুড়ি মিনিট ধরে ধীরে ধীরে রাজপথে স্কুটার চালান তিনি। মানসিকভাবে বরাবর আগ্রাসী মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন চ্যালেঞ্জেও যে যারপরনাই খুশি তা বোঝা যাচ্ছিল তাঁর চোখ মুখ দেখেই। নবান্ন থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর টোল ট্যাক্স পেরিয়ে বেশ খানিকটা রাস্তা ওভাবেই মমতার স্কুটারের চাকা গড়ায়। এরপর মাঝপথে ফের চালকের আসনে বসেন ফিরহাদ হাকিম। কিছুটা রাস্তা এগিয়ে দেন। এসএসকেএমের সামনে থেকে তারপর আবার হাজরা পর্যন্ত স্কুটার চালান মুখ্যমন্ত্রী।
সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছেও একই রকম আগ্রাসী মনোভাব দেখা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ”জ্বালানির দাম এতটা বাড়িয়ে দিয়েছে, লোকজন কীভাবে যাতায়াত করবে? এই দাম অবিলম্বে কমাতে হবে। যে দাম ৮০০ টাকায় চড়িয়েছে, তা ৪০০এ নামাতে হবে। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব। মানুষ একবার আন্দোলন শুরু করলে তখন সিবিআই দেখিয়েও লাভ নেই।” সব রকম ভাবে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবেন, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।


