পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৭ এপ্রিল: চুম্বনরত অবস্থায় প্রেমিক যুগলের দেহ উদ্ধার। বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নির্জন এলাকায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় দুইটি নিথর দেহ। একই ওড়নার দুই প্রান্তে ঝুলতে থাকা অবস্থায় দেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের রামপাড়া চ্যাচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মান্দাপাড়া এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই প্রেমিক যুগলের নাম প্রকাশ সরকার (১৯)। তার বাড়ি বংশীহারী থানার অন্তর্গত ৫ নম্বর মহাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামপুর এলাকায়। প্রিয়া কর্মকার (১৬)। সে বংশীহারী গার্লস হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। বাড়ি বুনিয়াদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নলপুকুর এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে তপন ব্লকের রামপাড়া চেঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মান্দাপাড়া শীতলাতলা এলাকায় মাঠের মধ্যে একটি গাছে চুম্বনরত অবস্থায় ওই প্রেমিক যুগলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। কাজের জন্য মাঠের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় তা নজরে আসে বাসিন্দাদের। যে ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি সেখানে ছুটে যায় তপন থানার বিরাট পুলিশ বাহিনীও। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। তবে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই স্কুল ছাত্রীর হাতে শাঁখা ও চুড়ি দেখে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই প্রেমিক যুগল নিজেদের মধ্যে বিয়ে সারবার পরেই এমন আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বাড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে এসে কেন তারা এমন আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিল তা নিয়ে জোর তদন্তে নেমেছে তপন থানার পুলিশ।
এদিকে এই ঘটনা জানবার পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছেন মৃতর বাবা-মা।

সুদেব মাহাত ও ভজন ঘোষ নামে দুই গ্রামবাসী জানিয়েছেন, এদিন সকালে প্রেমিক যুগলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে এসে পুলিশকে খবর দিয়েছেন। একই ওড়না গলায় পেঁচিয়ে দুজনেই আত্মঘাতী হয়েছে। প্রেমের ঘটনা নিয়ে গোলমাল থাকবার কারণেই এমনটা হতে পারে বলে তাদের অনুমান। তবে পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিস্কার হবে।
মৃতের এক আত্মীয় স্নেহলতা কর্মকার জানিয়েছেন, কি কারণে যে ওরা এমন ঘটনা ঘটালো সেটা বুঝতেই পারছি না। বাড়ির লোকেরা কেউ জানতো না ওদের ভালোবাসার কথা। দর্জির দোকানে যাবার কথা বলেই বেরিয়েছিল প্রিয়া।
গণেশ সরকার নামে এলাকার এক বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, বিষয়টি দেখবার পরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। প্রেমঘটিত কারণ থেকেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে ওই প্রেমিক যুগল।

