স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারতের, উত্তর দিনাজপুর, ১৩ সেপ্টেম্বর: সামান্য সময়ের ব্যবধানে মহানন্দা নদী থেকে মা ও মেয়েকে খুন করে নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার সুরুন এক নং অঞ্চলের গোরাহার বিশাহার গ্রামে। এই ঘটনায় স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম প্রিয়া পারভিন ও স্নেহা পারভিন(৩)। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যে নাগাদ ইটাহার সংলগ্ন মহানন্দা নদীর জগন্নাথপুর ঘাট থেকে উদ্ধার করা হয় স্নেহা পারভিনের দেহ।

অন্যদিকে সকাল হতেই আশাপুর ঘাট থেকে উদ্ধার হয় স্নেহার মা প্রিয়া পারভিনের দেহ। কিভাবে জোড়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও পরে রহস্য ফাঁস হয়ে যায় পুলিশি তৎপরতায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বছর চারেক আগে ইটাহার থানার সুরুন এক নং অঞ্চলের গোরাহার বিশাহার গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ সামিউল্লাহ ওরফে রাজের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ইটাহার গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিধিবাড়ি গ্রামের মেয়ে প্রিয়া পারভিনের। পেশায় ভিন রাজ্যের শ্রমিকের কাজ করে সামিউল্লাহ। মাত্র ২ দিন আগে ভিন রাজ্য থেকে বাড়িতে ফিরে আসে সামিউল্লাহ। রবিবার সকালে ইটাহারের বিধিবাড়িতে শ্বশুর বাড়ি এসে জানান তাঁর স্ত্রী প্রিয়া পারভিন ও মেয়ে স্নেহা পারভিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ডামাডোল পরিস্থিতিতে সন্ধ্যাতেই ইটাহার থানা এলাকার পাশেই চাঁচলের মহানন্দা নদীর জগন্নাথপুর ঘাটে শিশু কন্যা স্নেহা পারভিনের দেহ উদ্ধার করে চাঁচোল থানার পুলিশ। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে মায়ের দেহ উদ্ধার হয় মহানন্দা নদীর আশাপুর ঘাট থেকে। ওই এলাকা দুটি ইটাহারের পাশ্ববর্তী চাঁচল থানার মধ্যে পড়ে। পুলিশ দুটি দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার মৃত প্রিয়া পারভিনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত স্বামী মহম্মদ সামিউল্লাহের বিরুদ্ধে ইটাহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এদিকে মৃতের বাড়ির লোকেদের অভিযোগ, মেয়ে ও মাকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে সামিউল্লাহ। প্রমাণ লোপাটের জন্য নতুন নাটক তৈরি করেছিল।
এদিকে এই ঘটনায় মৃতার পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে৷ অভিযুক্ত মহম্মদ সামিউল্লাহকে মারধর করে ইটাহার থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷

