রাজেন রায়, কলকাতা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: একদিকে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের জনতাকে ফোন করে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, তেমনি পাল্টা তৃণমূলের নামে জনতাকে ফোন করে কুকথার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আইটি সেলের বিরুদ্ধে। বিধানসভা ভোটের আগেই এই টেলিফোনিক প্রচার ঘিরে রীতিমতো টক্করে দুই রাজনৈতিক দল।
একটি আলোচনচক্রে তিনি বলেন, ‘রামের ১৪ জন পূর্বপুরুষের নামও পেয়ে যাবেন আপনি। দুর্গার পাওয়া যাবে কি?’ রাম ভগবানের রাজা ছিলেন। কেউ কেউ তাঁকে অবতার বলে বিশ্বাস করেন। তাঁর ১৪ জন পূর্বপুরুষের নামও পেয়ে যাবেন আপনি। দুর্গার পাওয়া যাবে কি? তাই রাজা, সুশাসক, মর্যাদা পুরুষোত্তম মনে করা হয়।’ সঙ্গে বলেন, ‘দুর্গা জানি না কোথা থেকে এসে যায়।’
সেই মন্তব্যের পরই আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, দেবী দুর্গার অপমান করেছেন দিলীপ। সেই আলোচনাচক্রে হাজির ছিলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। সেই মন্তব্যের জন্য দিলীপ এবং বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। দাবি করেন, বহু ভাবনা নিয়ে গড়ে উঠেছে ভারত। বিভিন্ন রাজ্যে রামের আরাধনা করা হলেও বাংলায় দেবী দুর্গাকে রক্ষক হিসেবে দেখা হয়। বাংলায় দেবী দুর্গার পুজো করা হয়। দেবী দুর্গা তো হিন্দুত্বেরও ভাবনা, শুধু বাংলার ভাবনা নয়। গেরুয়া শিবির দেশের ইতিহাস পালটে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন কাকলি। আগামী দিনে মানুষ ভোটবাক্সে জবাব দেবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার পরে আর মুখ বুঝে থাকেনি তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যেক রাজ্যবাসীর ফোন কল বাজিয়ে দিলীপের সেই মন্তব্যের অংশ তুলে ধরে বিজেপিকে সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রমাণে সক্রিয় হয়েছে তারা। আর তার পাল্টা সক্রিয় হয়েছে বিজেপিও। তৃণমূলের পরিচয় নিয়ে শিক্ষাবিদদের ফোন করে উসকাচ্ছে বিজেপির আইটি সেল, সোমবার ‘মা’ প্রকল্প উদ্বোধনের ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনতাকে এই মর্মে সতর্কও করে বললেন, ”ফোন করে অনেককে তৃণমূলের পরিচয় দিয়ে উলটোপালটা কথা বলছে, গালাগাল দিচ্ছে। এ ধরনের ফোনে কথা বলবেন না। জেনে রাখুন, এই ফোনগুলো করছে বিজেপির আইটি সেল। ভোটের আগে এভাবে চক্রান্ত করছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ”আমরা অভিযোগ পেয়েছি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপককে একটা প্রাইভেট নম্বর থেকে ফোন করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ আলাপচারিতার পর তৃণমূলের নামে গালিগালাজ করছে ফোনের ওপার থেকে।আমার ধারণা, এটা বিজেপি আইটি সেলের কাজ। পুলিশকে বলছি, এই ঘটনার তদন্ত করুন। যদি কোনও বেআইনি কিছু খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন। এ ধরনের ফোন বেশি ধরবেন না, ধরলেও কথা বলবেন না। খেয়াল করুন, কী বলছে। তারপর ওই নম্বর নিয়ে গিয়ে থানায় এফআইআর করুন। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”

