আমাদের ভারত, ১১ ডিসেম্বর: রাজ্যে আত্মহত্যা করা কৃষকদের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিসহ সাত দফা দাবিপত্র রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের কাছে পেশ করল বিজেপি।
দাবিপত্রে যে সব বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি হল— ১) ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ, ২) আত্মহত্যা করা কৃষকদের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, ৩) ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রকল্প, ৪) পেট্রোল এবং ডিজেলের উপর রাজ্য সরকারের ভ্যাট অবিলম্বে কমানো, ৫) অবিলম্বে বৈদ্যুতিক শুল্ক কমিয়ে তা কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সেচের উদ্দেশ্যে করা, ৬) মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে কৃষকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্যে (এমএসপি) ফসল সংগ্রহ করা, ও ৭) কৃষকদের তাদের ফসলের লাভজনক হার দেওয়া।
রাজ্যপালকে দেওয়া স্মারকলিপিতে লেখা হয়েছে, “আপনাকে আমরা পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের করুণ অবস্থা জানাচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক জন কৃষক আত্মহত্যা করেছে।
কৃষি ক্ষেত্রে সরকারি প্রক্রিয়া ভেঙ্গে পড়ায় আলু, ধান, তামাক, রেশম, ফুল ও সবজি চাষিসহ সকল কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এই রাজ্য সরকারের ফসল কেনার অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এটি
মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে আলু চাষিরা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে তারা ফসলের ক্ষতি রোধ করতে পারেনি। অন্যান্য রবি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফুল, পান ও সবজি চাষিরাও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
আমাদের রাজ্য এখনও ফুল ও পান সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরি করেনি। প্রতিকূল আবহাওয়া ছাড়াও কৃষকরা যেসব বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তা হল,- ১) বৃষ্টির জল এবং বন্যার জল জমিতে আলু এবং অন্যান্য ফসলের ক্ষতি করছে। ২) ফসলের বীজ, সারের উচ্চ মূল্য এবং এর কালোবাজারি কৃষকদের দুর্দশা বাড়িয়ে তুলছে। ৩) কৃষকরা পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় নেই। ৪) যোগ্য কৃষকরা এখনও প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি পাচ্ছেন না। ৫) অপ্রত্যয়িত বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে খুব কম ফলন হয় এবং প্রায়শই বীজেরই ক্ষতি হয়। ৬) বাজারে দালালের প্রাধান্যের কারণে কৃষকরা লাভজনক হার পাচ্ছেন না। ৭) আমাদের রাজ্যে মজুত পরিকাঠামোর অভাব ফুল, পান, তামাক চাষে বিশাল ক্ষতি হচ্ছে। ৮) আমাদের রাজ্যে বিদ্যুতের শুল্ক সর্বোচ্চ। কৃষক, কৃষি এবং সেচের জন্য কোনও ছাড় নেই৷
বিষয়গুলো বিবেচনা করতে আবেদন করছি।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি-র রাজ্য কৃষক সভাপতি মহাদেব সরকার প্রমুখ প্রায় ১০ জন তাঁদের সই করা দাবিপত্র এদিন দিয়ে আসেন রাজ্যপালকে।
রাজভবনে এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সাংবাদিকদের বলেন, ”দুর্যোগে কৃষিকাজে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যবাসীর সমস্যা নিয়ে উদাসীন রাজ্য সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা তুলে ধরতে রাজ্যপালের কাছে এসেছি। রাজ্যে তিন জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। মালদা, নকশালবাড়ি, পশ্চিম মেদিনীপুরে কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। দামি গাড়ি চড়া কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্য সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে সমস্যার কথা শুনতে পারে না। সারের কালোবাজারি রুখতে টাস্ক ফোর্স কী করেছে? ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দিক রাজ্য।”

