আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ৩১ মার্চ: আদিবাসীদের মন পেতে প্রচারের ফাঁকে তাদের বাড়ির উঠনে বসে মধ্যাহ্নভোজন সারলেন শুভাশিস চৌধুরী। বিজেপি প্রার্থীকে খাইয়ে তৃপ্তি পেলেন মনমতি হেমরম। তবে তৃপ্তির মাঝে আতঙ্কও লুকিয়ে রয়েছে তাঁর মনে। বিজেপি প্রার্থীকে মধ্যাহ্নভোজন করানোয় আবার শাসকের হুমকির মুখে পড়তে হবে না তো? যদিও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন শুভাশিসবাবু।
কেন্দ্রীয় নেতাদের রাজ্য সফরে তফসিলি ও আদিবাসীদের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। সেই ট্র্যাডিশন বজায় রাখলেন বীরভূমের রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভাশিস চৌধুরী। বুধবার দুপুরে প্রচারের ফাঁকে দুপুরে হাজির হন রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বনহাট অঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত মাটিমহল গ্রামে। সেখানে শুভাশিসবাবুকে প্রথমে মালা পরিয়ে, আবির দিয়ে অভ্যর্থনা জানান আদিবাসীরা। এরপর আদিবাসী রীতি মেনে তাঁকে বাড়ির ভিতর নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে প্রার্থী সহ বিজেপি কর্মীদের জন্য রান্না সম্পূর্ণ। মেনুতে ছিল সাদা ভাত, ডাল, পাঁচতরকারি, চাটনি।

খাওয়াদাওয়া শেষে শুভাশিসবাবু বলেন, “মনমতি হেমরম আমাদের দীর্ঘদিনের পরিচিত। উনিই আমাকে বলেছিলেন গ্রাম দিয়ে প্রচারে গেলে তার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন করতে হবে। সেই মতো আমরা তার বাড়িতে গরম ভাত তৃপ্তি করে খেলাম। শুধু মনমতি নয়, গোটা আদিবাসী গ্রামের মানুষ যেভাবে আমাদের আপ্যায়ন করলেন তাতে আমি মুগ্ধ”।
খাইয়ে তৃপ্তি পেয়েছেন মনমতি হেমরমও। তবে কোথাও যেন আতঙ্ক তাড়া করছে। তিনি বলেন, “বিজেপিকে খাওয়ানোর জন্য শাসক দলের নেতারা হয়তো হুমকি দিয়ে যাবে”। ওই আদিবাসী গ্রাম আজ অনুন্নত। আজও গ্রামের রাস্তা পাকা হয়নি। মেলেনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি। গ্রামবাসীদের ক্ষোভ বিজেপি সমর্থক হওয়ায় উন্নয়ন থেকে আজ বঞ্চিত গোটা গ্রাম।
শুভাশিসবাবু গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “কেউ হুমকি দিলে একবার ফোন করবেন। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। আর ক্ষমতায় এলে সমস্ত আদিবাসী গ্রামে উন্নয়ন করা হবে”।


