Teachers, Desher Mati, শিক্ষকদের ‘পূজন সমারোহ’, খড়দহে শতাধিক শিক্ষক- শিক্ষিকাকে সম্মান ‘দেশের মাটি’র

আমাদের ভারত, খড়দহ, ৭ সেপ্টেম্বর: শিক্ষক শুধু শিক্ষা দেন না, প্রজন্ম গড়ার কাজও করেন। সেই শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার বার্তা দিতে খড়দহে আয়োজিত হলো বিশেষ শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠান। ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’- এর উদ্যোগে খড়দহের শিবনাথ স্কুলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে খড়দহ ও সংলগ্ন এলাকার শতাধিক শিক্ষক- শিক্ষিকাকে সম্মানিত করা হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও মঙ্গলাচরণের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের অভিনব আয়োজনকে ‘শিক্ষক পূজন সমারোহ’ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক দেবব্রত দাস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘দেশের মাটি’-র সম্পাদক মিলন খামারিয়া এবং সভাপতি সুশান্ত মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই বিশিষ্ট শিক্ষক—খড়দহের দেবব্রত দাস ও শুক্লা রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান দপ্তরের প্রাক্তন উপাচার্য ড: চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী।

শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদ্বয়, রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান শিক্ষক দীনেশ সরকার, কল্যাণনগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, আইডিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং ভাবনাথ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি নারায়ণা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, সোদপুরের প্রধান শিক্ষক, অ্যাকাডেমিয়ার অয়ন এবং শতদল বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাতুলিয়া পঞ্চায়েত ও খড়দহ মিউনিসিপ্যালিটির অন্তর্গত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক- শিক্ষিকার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের পরিসর আরও বৃদ্ধি পায়।

তবে অনুষ্ঠানের পরিধি শুধু শিক্ষক সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সমাজের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচটি সামাজিক সংগঠনকেও সম্মানিত করা হয় ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর পক্ষ থেকে। শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবদান রাখা সংগঠনগুলিকে একই মঞ্চে সম্মান জানানোর মধ্যে দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘দেশের মাটি’-র সম্পাদক মিলন খামারিয়া বলেন, এ শুধু সম্মাননা নয়। আপনাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে, আপনাদের মতো শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে দেশের মাটি আরও এগিয়ে চলুক—এই কামনাই করি।

সভাপতি সুশান্ত মজুমদার বলেন, শিক্ষক- শিক্ষিকাদের উপস্থিতি ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-কে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি সকল শিক্ষক- শিক্ষিকাকে ‘দেশের মাটি’-র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সনাতনী আচার ও ভাবধারার বিশেষ উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক দেবব্রত দাস। তাঁর বক্তব্য, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও মঙ্গলাচরণের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানে যে অভিনব সনাতনী ধারার প্রকাশ ঘটেছে, তা আমাদের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। তাঁর কথায়, এ যেন শুধু শিক্ষক সম্মাননা নয়, শিক্ষক পূজন সমারোহ।’

অনুষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর সদস্যা জীতা লাহিড়ী। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ছন্দা হালদার ও শৈবাল সরখেল।

শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের অবদানের স্বীকৃতির পাশাপাশি সমাজের সঙ্গে শিক্ষক সমাজের আত্মিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার বার্তা দিয়েই শেষ হয় অনুষ্ঠান। একসঙ্গে শতাধিক শিক্ষক- শিক্ষিকাকে সম্মান জানানোর এই উদ্যোগ উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *