আমাদের ভারত, ১১ জুন: তাকে হাওড়া যেতে দেওয়া হবে না। এই কারণেই সকালবেলায় নিউটাউনের বাড়িতে সুকান্ত মজুমদারকে হাউস অ্যারেস্ট করেছিল পুলিশ। বাইরে গেলেও হাওড়া যাবেন না সেই মুচলেকা দিতে বলেছিল পুলিশ। কিন্তু তাতে কোন ভাবেই সুকান্ত মজুমদার রাজি হয়নি। এরপর একপ্রকার জোর করেই হাওড়ার পথে রওনা দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে তার কনভয়। শেষ পর্যন্ত তিনি দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে পৌঁছে যান। আগে থেকেই টোলপ্লাজার কাছে বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। সেখানেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি সহ তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৪০ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিক্ষোভ অবরোধের জোরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা হাওড়াতে যেতে চেয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানে তাদের দলীয় অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল শুক্রবার। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন বহু বিজেপি কর্মী। কিন্তু রওনা হওয়ার আগেই সকালে তাকে আটকে দিতে চায় পুলিশ। বিজেপি কর্মীরা তাকে বাড়ি থেকে বার করে আনলেও পুলিশের বাধা টপকে সুকান্ত মজুমদার শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছতে পারেনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হ্যান্ডওভার করা নিয়ে জটিলতা হয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ প্রিজন ভ্যানে বসে থাকতে হয় তাঁকে। এদিকে সন্ধ্যেবেলায় দলের অন্যান্য নেতারা রাজভবনে যান।

শনিবার সকালবেলায় সুকান্ত মজুমদারকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেয়নি পুলিশ। এই নিয়ে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়েছে বিজেপি কর্মীর ও সুকান্ত মজুমদারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। শেষ পর্যন্ত সোয়া দুটো নাগাদ সুকান্ত মজুমদার জোর করে নিউটাউনের বাড়ি থেকে হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল এলাকা পার হয়ে বিদ্যাসাগর সেতুতে এসে সুকান্তবাবুকে বাধা দেয় পুলিশ। রাজ্য বিজেপি সভাপতি গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেন। তারপর সুকান্ত মজুমদার ফের গাড়িতে ওঠেন, কিন্তু টোলপ্লাজার কাছে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ সকালে ১১টা নাগাদ নিউটাউনের বাসভবন থেকে উলুবেড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই পুলিশ তাঁকে এসে জানিয়ে দেয় তাঁকে যেতে দেওয়া হবে না। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের বিরাট পুলিশ বাহিনী তাঁর বাড়ির সামনে মোতায়েন থাকে। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, তাকে নিয়ম ভেঙে অনৈতিক ভাবে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি হাওড়া যেতে চান কিন্তু পুলিশ তাকে অনুমতি দিচ্ছিল না। তাঁর অভিযোগ “পুলিশ দলদাসের মত ব্যবহার করছে। পুলিশ কোনো কারণ দেখাতে পারেনি তাকে আটকে রাখার। হাওড়াতে ১৪৪ ধারা থাকায় তাকে যেতে দেবে না বলেছে পুলিশ। কিন্তু হাওড়া থেকে আমার বাড়ি অনেক দূর। এগারোটার সময় যখন আমি বাড়ি থেকে বেরোতে গিয়েছিলাম সেই সময় আমাকে আটকে দেওয়া হয়। কেন আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হলো বুঝতে পারছি না। পুলিশ কোনো আইনি কাগজ দেখাতে পারেনি।”
সুকান্তবাবু আরও জানিয়েছেন, তিনি হাওড়া যাবেন না জানিয়ে মুচলেকা দিতে বলে পুলিশ। কিন্তু তাতে তিনি রাজি হননি। তাঁর কথায়, “আইনজীবীদের বলেছি আইনি ব্যবস্থা নিতে। আমি ওকালতনামায় সইও করে দিয়েছি।”
এদিকে সন্ধ্যাবেলায় রাহুল সিনহা, অগ্নিমিত্রা পাল, শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল রাজভবনে যান।

