পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১২ জুলাই: বাবাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল গুনধর ছেলের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিয়ালপাড়া এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে মৃত ওই ব্যক্তির নাম সুনীল সরেন(৫০)।
জানাগেছে, পেশায় কৃষক সুনীল সরেন মাঠের কাজ সেরে বাড়ি ফিরে তীব্র গরমের কারনে বৃষ্টিকে গালিগালাজ করছিলেন। আর তাতেই উত্তেজিত হয়ে বাবাকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় দিনই নানা কারন অকারণে বাবা সুনীল সরেনকে মারধর করত তার ছেলে রবিন ও তার মা, বলে অভিযোগ। সোমবার রাতে কিছুটা মদ্যপ অবস্থায় এসে তীব্র গরমের কারনে বৃষ্টিকে গালিগালাজ করছিলেন তিনি। আর তাতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে ছেলে রবীন সরেন। বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বাবাকে। মারের চোটে তিনি পড়ে যান বড়ির পাশের নর্দমাতে। সেখানেই মৃত্যু হয় সুনীল সরেনের। বিষয়টি জানাজানি হতে রাতেই ঘটনাস্থলে যায় কুমারগঞ্জ থানার আইসি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত মারের ফলে মৃত্যু হয় সুনীলের। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
মৃতের স্ত্রী লক্ষ্মী হেমব্রম বলেন, বাড়িতে ফিরে এসেই তিনি শুনতে পান নানা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন স্বামী। সবসময় তাকে গালিগালাজ করত সে। আর তখনই ছেলে বাঁশ দিয়ে মারে।
প্রতিবেশী লধো সরেন ও কল্পনা মার্ডিরা বলেন, বাবার উপর অকথ্য অত্যাচার করত মা ও ছেলে। নিজেদের কুকীর্তি ঢাকতে মাঝেমধ্যেই বাবাকে মারধর করত তারা। ওইদিনও তাই হয়েছে। মদ খেয়ে বৃষ্টি না হবার কারনে আকাশ ও বৃষ্টিকে গালিগালাজ করছিল সে, তার কারনেই বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে বাবাকে মেরে ফেলেছে ছেলে। অভিযুক্ত ছেলে রবিন সরেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

