কৃষিকাজ শুরু হতেই সাপের উপদ্ৰব, আতঙ্কিত বাঁকুড়ার চাষিরা

সোমনাথ বরাট, আমাদেৱ ভারত, বাঁকুড়া, ৩ জুলাই: জেলা জুড়ে কৃষিকাজ শুরু হতেই সাপের উপদ্ৰবে আতঙ্কিত চাষিরা। বৰ্ষার আগমনের সাথে সাথে সারা বাংলাজুড়ে চাষের কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। কিন্তু ইতিমধ্যেই এই কাজে ভীতির সঞ্চার করেছে সর্পকুল। আপাত নিরীহ এই সরিসৃপ গ্ৰামাঞ্চলে এমনই ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কৃষি শ্ৰমিকরা ভয়ে কাজ করতে পৰ্যন্ত অনীহা প্ৰকাশ করছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে প্রতি বছর সাপের কামড়ে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটছে। বাঁকুড়া জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সৰ্প দংশনের। বিশেষ করে দক্ষিণ বাঁকুড়ায় সাপের উপদ্ৰব খুব বেশী। জেলাজুড়ে সাপের মধ্যে কালচিতি বা কালাচ ও চন্দ্ৰবোড়া সাপের উপদ্ৰব গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ২০১৯ -২০ সালে সারা জেলায় ৪৩৮টি সাপ কামড়ের ঘটনা ঘটে়। তার মধ্যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।এই সংখ্যা আরোও বেশী হতে পারে বলে অনুমান, কেননা গ্ৰামাঞ্চলে সাপে কাটার চিকিৎসায় এখনো ওঝা গুনীনের উপর ভরসা করে বহু মানুষ। হাসপাতালে চিকিৎসা করতে না আসায় এই সংখ্যার তারতম্য হয়।
সাপের কাঁমড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্ৰমিকদের গামবুট বা পায়ে চট বেঁধে ও গ্লাভস পরার নিদান দিলেও তা সম্ভব নয় বলে শ্ৰমিকদের অভিমত।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক জয়দেব চন্দ্ৰ বলেন, কালচিতা বা কালাচ সাপের চেয়েও ভয়ঙ্কর চন্দ্ৰবোড়া। এই সাপ একই সাথে ৩০-৪০ টি বাচ্চা দেয় এবং জন্মের সাত দিনের মধ্যেই সক্ৰিয় হয়ে ওঠে। যার ফলে অল্প সময়ে বিস্তীৰ্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই সাপে কামড়ালে যে ভেনাম প্ৰয়োগ করা হয় তা অন্যান্য সাপের চেয়েও বেশী।সাপের ভেনাম বা প্ৰতিষেধক সাধারণত তামিলনাডুতে তৈরী হয়। এই প্ৰতিষেধক চন্দ্রবোড়া সাপের বিষ থেকেই তৈরী হয়। কিন্তু তামিলনাড়ুর চন্দ্ৰবোড়ার সাথে পশ্চিমবঙ্গের চন্দ্ৰবোড়া সাপের একটু চরিত্ৰগত পাৰ্থক্য রয়েছে, সে কারণে তামিলনাড়ুর তৈরী প্ৰতিষেধকের কাৰ্যকারিতা কম। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সংগৃহীত সাপের বিষ থেকে পশ্চিমবঙ্গেই প্ৰতিষেধক বা ভেনাম তৈরী হলেই সমস্যা দূর হবে। এই বিষয়টি তিনি সরকারের ও দৃষ্টি আকৰ্ষণ করেন।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজেৱ অধ্যক্ষ ডাঃ পাৰ্থ প্ৰতিম প্ৰধান বলেন, এখানে প্ৰায় প্ৰতিদিনই গড়ে তিন থেকে পাঁচটি সাপে কাটা রোগী ভৰ্তি হয়। সঠিক সময়ে এলে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু গ্ৰামাঞ্চলে ওঝা গুনীনের উপর ভরসা করে অনেকে দেরি করে তারা বিপদ ডেকে আনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *