জুতো বিক্রি হয় এসি মার্কেটে, সবজি বিক্রি হয় ফুটপাতে

মিলন খামারিয়া
আমাদের ভারত, বীরনগর, নদীয়া, ১২ অক্টোবর:
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “মানুষ বড়ই আশ্চর্যজনক ও বোকা। সে সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে স্বাস্থ্য হারায়।তারপর আবার সেই স্বাস্থ্য ফিরে পেতে সম্পদ নষ্ট করে।” সত্যিই মানুষের আচরণ বড়ো অদ্ভুত প্রকৃতির। যাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ও সমাজের ক্ষতি করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

যা খেয়ে আমরা বেঁচে আছি তাকে কীটনাশক মুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি করার সরকারি উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। যার ফলে ফল বা সবজির বাজারে গিয়ে দরদাম করে ফুটপাত থেকে তা কিনে আনছি, আর এসি দোকানে গিয়ে দরদম করা ছাড়াই নির্দিষ্ট মূল্য দিয়ে জুতো কিনছি। গুরুত্বপূর্ণ দুটোই, তবে খাবার অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার প্রতি এত অবহেলা কেন?

অথচ খাবার খেয়েই আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু তাকে ভালো জায়গায় বিক্রির বন্দোবস্ত করা বা উচিত মূল্য দিয়ে কেনার ব্যাপারে মানুষের তেমন হেলদোল নেই। কেউ ভাবেও না যে একটা ফসল উৎপাদন করতে কৃষককে কতটা পরিশ্রম করতে হয়। নিজে বিপদে না পড়লে অন্যের দুঃখ বোঝা যায় না। আমাদের দেশের কৃষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চিত ও অবহেলিত। তাদের সেই বঞ্চনার উপশম হবে কীভাবে?

কৃষককে আমাদের বাঁচাতেই হবে। করোনা মহামারীতেও ভারতের তেমন ক্ষতি হয়নি কারণ দেশের ভিত কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই চাষিদের পাশে দাঁড়াতে ও তাদের সাথী হতে আমাদের সবারই উচিত বাড়িতে ‘সবজি বাগান’ বা ‘ছাদ বাগান’ তৈরি করা। তাতে কীটনাশক মুক্ত বিশুদ্ধ খাবার যেমন পাওয়া যাবে তেমনি ‘পরাণ মন্ডল’দের মতো কৃষকের দুর্দশাও অনুভব করা যাবে।

যা খেয়ে আমরা বেঁচে আছি সেই ফল-সবজি হাটে-বাজারে, ফুটপাতে, প্ল্যাটফর্মে- এমনকি ট্রেনেও বিক্রি হচ্ছে, সব টাই প্রায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। ইদানিং কতিপয় বহুজাতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পরিকাঠামোর মধ্যে ফল-সবজি বিক্রি হচ্ছে বটে কিন্তু তা নেহাৎই নগন্য।

আমাদের দেশের কৃষক সমাজ ঘুমিয়ে আছে। সে ঘুম যেদিন ভাঙবে সেদিন একটা বড়ো সমস্যার আগুন জ্বলে উঠবে দেশ জুড়ে। আত্মবিস্মৃত বাঙালির মতোই কৃষকরাও আত্মবিস্মৃত। তাদের সচেতন হবার আগেই আমাদের সাবধান হওয়া উচিত নচেৎ বিপদ অবশ্যম্ভাবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *