মেদিনীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ‘শারদ সম্মান’ ১১টি পুজো কমিটিকে

পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর, ২০ অক্টোবর: রাজ্যের মধ্যে এই প্রথম কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ‘শারদ সম্মান’ এর উদ্যোগ নেওয়া হলো। সৌজন্যে, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ‘বেতার বিদ্যাসাগর’।

প্রসঙ্গত, বছর দুয়েক হল মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব এই কমিউনিটি রেডিও স্টেশন (Community Radio Station) পথচলা শুরু করেছে। জঙ্গল ঘেরা পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে নানা ভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করার সাথে সাথে, এবারই প্রথম মেদিনীপুর শহরের ১১-টি পুজো কমিটিকে ‘শারদ সম্মান’এ সম্মানিত করলো। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলাশাসক আয়েশা রানী এ।

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ.পি.জে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে এই ১১টি পুজো কমিটিকে পুরস্কৃত করা হল। জেলাশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিবাজী প্রতিম বসু, নিবন্ধক (রেজিস্ট্রার) ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী, বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যক্ষ (ডিন) ড. সত্যজিৎ সাহা, কলা বিভাগের অধ্যক্ষ (ডিন) ড. তপন কুমার দে প্রমুখ।

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি রেডিও স্টেশন ‘বেতার বিদ্যাসাগর’ (90.8 FM)-এর পক্ষ থেকে মোট ৫-টি বিভাগে, মেদিনীপুর শহরের ১১টি পুজো কমিটি-র হাতে ‘শারদ সম্মান’ তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিচারে- সামগ্রিকভাবে প্রথম হয়েছে- রবীন্দ্রনগর সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি। তাঁরা ‘বাংলার কৃষি ও বাঙালির বাজার’ থিম তুলে ধরেছিলেন। এই বিভাগে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে- অশোকনগর সর্বজনীন এবং বিধাননগর সর্বজনীন। অশোকনগরের ‘এবং শান্তিরূপেণ’ থিম নজর কেড়েছিল সবার।

বরাবরের মতোই সার্বিকভাবে সর্বাঙ্গ সুন্দর পুজোর আয়োজন করেছিল বিধাননগর। থিম বিভাগে, প্রথম ও দ্বিতীয় হয়েছে যথাক্রমে- সংযুক্ত পল্লী সর্বজনীন এবং বৈশাখী পল্লী সর্বজনীন। এর মধ্যে, স্বাধীনতার ৭৫ বছরে সংযুক্ত পল্লীর ‘আমরা স্বাধীন’ থিম নিঃসন্দেহে জেলার মধ্যে অন্যতম সেরা বলে বিবেচিত হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকেই!

বাস্তুতন্ত্র বা প্রাকৃতিক ভারসাম্যের উপর গুরুত্ব দিয়েছিল বৈশাখী পল্লী। অপরদিকে, মূর্তি ও সাজসজ্জা বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় হয়েছে যথাক্রমে- স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পুজো হিসেবে খ্যাত কর্নেলগোলা আদি সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবং গোলকুঁয়াচক সর্বজনীন দুর্গোৎসব।

নিরাপত্তা এবং পরিবেশ এই দু’টি বিভাগে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে যথাক্রমে- ছোট বাজার সর্বজনীন ও বার্জটাউন সর্বজনীন (নিরাপত্তা) এবং কেরানীচটি সর্বজনীন ও রাঙামাটি সর্বজনীন (পরিবেশ)।

জেলাশাসক আয়েশা রানী ‘শারদ সম্মান’ পুজো কমিটিগুলিকে বার্তা দিয়ে বলেন, “পরের বছর আরো ভালো থিম দেখার আশায় রইলাম।” উপাচার্যের মতে, “রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরা নিজস্ব কমিউনিটি রেডিও স্টেশন শুরু করতে পেরেছি। জাতি ও সমাজের প্রতি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা অনুভব করেই আমরা নানাভাবে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছি। এই শারদ সম্মানের ভাবনা তার মধ্যে অন্যতম।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *