Bangaon, Balaka Samiti, চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া বনগাঁয়, সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা বলাকা সমিতির

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৯ অক্টোবর:
দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই কলকাতার চোরবাগানে মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজ্যজুড়ে। সপ্তমীর দিন দর্শনার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তা ও সামাজিক সংগঠন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকজ্ঞাপন করল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বলাকা সমিতি। শোকের আবহে সপ্তমীর রাতে নিজেদের সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে মণ্ডপের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ক্লাবের সদস্য- সদস্যা- সহ এলাকার বাসিন্দারা।

দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব, আলোর রোশনাই এবং মানুষের মিলনমেলা। সারা বছর ধরে এই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু উৎসবের সেই আনন্দের মধ্যেই চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা বহু মানুষের মনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। যে সময়ে রাজ্যজুড়ে পুজোর আনন্দে মেতে উঠেছেন মানুষ, সেই সময় এমন প্রাণহানির ঘটনায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই ঘটনার পর মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল এবং এর পিছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।
চোরবাগানের ঘটনার প্রতিবাদে নয়, বরং মৃতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাতেই সপ্তমীর রাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয় বনগাঁর বলাকা সমিতি। ক্লাবের অন্যতম সদস্য অনিমেষ তরবদারের নেতৃত্বে এলাকার মহিলা ও পুরুষেরা পুজোমণ্ডপের সামনে একত্রিত হন। এরপর মোমবাতি জ্বালিয়ে নীরব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা। শোকের আবহে বন্ধ রাখা হয় ক্লাবের সমস্ত আনন্দ- অনুষ্ঠান। উৎসবের মরশুমে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষগুলির স্মরণে বলাকা সমিতির এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আবেগের সৃষ্টি করে। মোমবাতির আলোয় মৃতদের স্মরণ করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানান উপস্থিত সকলে।

ক্লাবের অন্যতম সদস্য অনিমেষ তরবদার বলেন, “দুর্গাপুজো আনন্দের উৎসব হলেও চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সকলকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। এই ঘটনার কথা মাথায় রেখেই সপ্তমীর রাতে আমরা ক্লাবের সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে মোমবাতি জ্বালিয়ে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি।”

উৎসবের আনন্দের মাঝেও মানবিকতা ও সহমর্মিতার বার্তা তুলে ধরল বনগাঁর বলাকা সমিতি। আলোর উৎসবের দিনে মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃতদের স্মরণ করে ক্লাবের সদস্যরা বুঝিয়ে দিলেন, আনন্দের পাশাপাশি বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের দুঃখে সামিল হওয়াও সামাজিক দায়িত্বেরই অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *