টিটাগড়ে তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণনির্যাতন, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বিজেপি সহ একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের

আমাদের ভারত, ৯ সেপ্টেম্বর: রাতের অন্ধকারে বাড়ির সামনে থেকে ১৯ বছরের তরুণীকে মুখ চাপা দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ। বুধবার রাতে হাড়হিম করে দেওয়া ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়েরর কয়লা ডিপো এলাকায়। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিটি রোড অবরোধ করেন বিজেপি খুব মোর্চা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা।

বুধবার রাতের ভয়াবহ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলে তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, তারপর থেকে নির্যাতিতার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল তরুণীর বাড়িতে যায়। তারপর তারা টিটাগর থানার সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিটি রোড অবরোধ করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করলে তাদের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

গণধর্ষণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিরা অধরা। নির্যাতিতা জানিয়েছিলেন, বুধবার রাত দশটা নাগাদ বাড়ির সামনে বসে তিনি মোবাইল ফোনে গেম খেলছিলেন। সেই সময় গাড়িতে করে চার দুষ্কৃতী আসে এবং তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে মদ্যপান করে দুষ্কৃতীরা। এরপর পালা করে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে টিটাগর থানায় অভিযোগ দায়ের করে তরুণী। এরপর তার শারীরিক পরীক্ষা হয়। কিন্তু তরুণীর ঠাকুমা অভিযোগ করেন তারপর থেকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ওই নির্যাতিতাকে। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন তরুণী। থানা থেকে বেরোনোর পর তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “চারজন মিলে একটি বাচ্চা মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে। মেয়েটির মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি। উল্টে বেশ কিছু সামাজিক সংগঠন যেমন হিন্দু জাগরণ মঞ্চর তরফে এই ঘটনার প্রতিবাদে পথ অবরোধ করা হয়েছিল। তখন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সেই জেলার পদাধিকারীকে পুলিশ মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। এটাই হচ্ছে পুলিশের কাজ।” সুকান্ত মজুমদার কথায়, “এখন তৃণমূলের পুলিশের একটাই কাজ। শান্তিনিকেতন আর দিদিমণির বাড়ি পাহাড়া দেওয়া। তার সাথে বিজেপির নেতা মন্ত্রী কর্মীদের বিরুদ্ধে কেস দেওয়া।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *