প্রাথমিক থেকে ধাপে ধাপে স্কুল খোলার সুপারিশ আইসিএমআরের বিশেষজ্ঞদের

আমাদের ভারত, ২৮ সেপ্টেম্বর:করোনার কারণে টানা দেড় বছর বন্ধ স্কুল। কিন্তু এবার ধাপে ধাপে স্কুল খোলার সুপারিশ করল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের বিশেষজ্ঞরা। দেশের সব রাজ্যের স্কুলই খোলার সুপারিশ করেছেন তারা। আই সি এম আর এর বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ প্রাথমিক স্তর থেকে এবার ধাপে ধাপে স্কুল খুলে দেওয়া হোক। পরের ধাপে খোলা হোক মাধ্যমিক ও তারপরের ধাপে খোলা হোক উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে স্কুল।

ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিকেল রিপোর্টে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে আইসিএমআরের বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের সর্বত্র স্কুল খোলার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জের ইউনেস্কোর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টের মূল বক্তব্যকে তুলে ধরেছেন তারা। ইউনেস্কোর সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে করোনা পরিস্থিতিতে ভারতের সব কটি রাজ্যে টানা ৫০০ দিনেরও বেশি স্কুল বন্ধ থাকায় ৩২ কোটিরও বেশি শিশুর ক্ষতি হয়েছে। তাদের পড়াশোনা একরকম বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুলের নিয়মকানুন বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়াশোনা করতে অভ্যস্ত ছিল শিশুরা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের সেই অভ্যাসটা নষ্ট হয়ে গেছে।

“রিওপেনিং অফ স্কুলস ডিউরিং কোভিড-১৯ প্যানডেমিক: আ পারসিসটেন্ট ডাইলেমা” নিবন্ধে আইসিএমআরের বিশেষজ্ঞরা লিখেছেন,’ এদেশে স্কুল স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার যে ধরনের তাতে আমাদের হাতে প্রচুর তথ্য-প্রমাণ এসেছে, যা বলছে অতিমারি আগের পর্বে যেভাবে স্কুল চলছিল,অবিলম্বে সেই অবস্থায় ফিরে যাওয়া উচিত। তবে সেই কাজ শুরু হওয়া উচিত ধাপে ধাপে। প্রাথমিক স্তর দিয়ে সেই কাজ এখনই শুরু করে দেওয়ার প্রয়োজন।’

ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে প্রকাশিত নিবন্ধটি লিখেছেন আইসিএমেরে তিন বিশেষজ্ঞ। তনু আনন্দ, সমীরণ পান্ডা, বলরাম ভার্গব। যদিও এই নিবন্ধে তারা এটাও লিখেছেন যে ধাপে ধাপে স্কুল খোলার প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রতি রাজ্যের প্রতিটি জেলার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদাভাবে তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে। দেখতে হবে সব রাজ্যের সব জেলার দ্বিতীয় তরঙ্গের সংক্রমণের হার কেমন ছিল? জানতে হবে সেইসব জেলায় কতজন প্রাপ্তবয়স্কের টিকাকরণ হয়েছে? যাতে বোঝা যায় ওই সব জেলার সম্ভাব্য তৃতীয় তরঙ্গ যদি আসে তাহলে তার রূপ কেমন হবে? এই সব তথ্যের ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে সেইসব জেলায় প্রাথমিক স্তর থেকে স্কুল খোলার কাজ শুরু করে দেওয়া যেতে পারে।

ওই নিবন্ধে বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন করোনা ভাইরাসে মৃদু সংক্রমনের বিপদ প্রাপ্ত বয়স্কদের যতটা সেই বিপদ প্রায় ততটাই ১-১৭ বছর বয়সীদের। এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ রয়েছে। তবে সংক্রমিত হওয়ার পরে তার ভয়াবহ হয়ে ওঠা আর মৃত্যু নিরিখে অন্তত ১-১৭ বছর বয়সীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন প্রাপ্তবয়স্করা । তাই বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ধাপে ধাপে স্কুল খোলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তৃতীয় তরঙ্গ যদি কখনো আসে, তাহলেও ১-১৭ বছর বয়সীদের ক্ষয়ক্ষতির হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *