আমাদের ভারত, ৮ জুলাই: বিজেপি সহ বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছেন রাজ্য পুলিশের সাহায্য নিয়েই তৃণমূল সন্ত্রাস চালাচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ দিনাজপুরে যা কিনা প্রধান বিরোধী দল বিজেপির রাজ্য সভাপতির জেলা সেখানেই উল্টো ছবি উঠে এলো। রাজ্য পুলিশের এক কর্মী সুকান্তের কাছে এসে তাকে বাঁচানোর জন্য কাকুতি মিনতি করলেন। তিনি দায়িত্ব থেকে মুক্তির আর্জি জানালেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদের কাছে। তিনি জানান, ছাপ্পা ভোটে বাধা দেওয়ার জন্য তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে শাসক দলের নেতারা। তাই মৃত্যুভয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান।
সকাল দশটা নাগাদ গঙ্গারামপুরের সুখদেবপুরে ১৭৬ নম্বর বুথে ছাপ্পা ভোট পড়ছে বলে অভিযোগ ওঠে।স্থানীয় বিজেপি নেতার ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সুকান্ত। তখনই রাজ্য পুলিশের কর্মী কৃষ্ণমোহন দৌড়ে যান সুকান্তর গাড়ির কাছে। কাতর স্বরে তিনি নিজেকে বাঁচানোর আবেদন জানান।
কৃষ্ণ মহান জানান, তিনি শিলিগুড়ি কমিশনারেট থেকে এসেছেন। ওই অঞ্চলের কাউকে তিনি চেনেন না। তবে শাসক দলের লোকেরাই তাকে মেরে ফেলার জন্য হুমকি দিচ্ছে। সেই সময় সুকান্তকে বলতে শোনা যায় আপনার হাতে তো লাঠি রয়েছে ব্যবহার করছেন না কেন?
পরে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কৃষ্ণ মোহন বলেন, “আমি এখান থেকে সরতে চাইছি। আমি কি করবো একা? আমায় হুমকি দিচ্ছে। আমি বলেছি ছাপ্পা ভোট হতে দেব না। তখন বলেছে চুপচাপ থাকুন। না হয় এখান থেকে সরে যান। পুরোপুরি ছাপ্পা ভোট হবে।” কৃষ্ণমোহন আরো বলেন, “আমার লাইন সামলানোর কথা কিন্তু বাধ্য হয়ে বুথের ভেতরে গিয়েছি। তারপরই মেরে ফেলার হুমকি। আমি এখন এখান থেকে সরে যেতে চাইছি।”
তার দাবি, এই বিষয়ে তিনি ফোন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কেউ কিছুই জানাননি। তিনি বলেন, আমাকে মেরে ফেলবে বলছে। পুলিশকর্তাদের ফোন করেছি তারা কিছুই বললেন না।
সংবাদ মাধ্যমকে সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে ভোটের নামে প্রহসন চলছে। পুলিশকে নিয়ে ভোট করছে তৃণমূল। আর গঙ্গারামপুরের ঘটনা দেখিয়ে দিল কোথাও কোথাও সৎ পুলিশ কর্মীরা প্রতিবাদ করলে তারাও কতটা অসহায়। সুকান্তর দাবি, বেশিরভাগ জায়গাতেই পুলিশের মদতে গোলমাল করেছে তৃণমূল। তিনি বলেন, ওই পুলিশকর্মী আমার কাছে আসার আগে তার কর্তাদের কাছেও জানিয়েছেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আসলে উপরের কর্তারা সবটাই করছে তৃণমূলের নির্দেশ মত।

